...|...|...

সারাদেশ

সেনাসদস্য স্বামীকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী সুমাইয়া

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, রাত ৮:৩১
Shares
সেনাসদস্য স্বামীকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী সুমাইয়া

সেনাসদস্য স্বামীকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী সুমাইয়া। ছবি: সংগৃহীত

মাত্র চার বছর আগে ভালোবেসে সংসার শুরু করেছিলেন সেনাসদস্য তিতাস শেখ ও সুমাইয়া আক্তার। আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তিতাসের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন তিতাস। স্বামীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকে বাকরুদ্ধ স্ত্রী সুমাইয়া। বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামে নিহত সেনাসদস্য তিতাস শেখের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। স্বামীকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন সুমাইয়া। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। কিন্তু কোনো সান্ত্বনাই যেন তার শোক কমাতে পারছে না।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চার বছর আগে পাশের গ্রামের সুমাইয়া আক্তারের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিতাস শেখ। তাদের কোনো সন্তান ছিল না। আগামী ডিসেম্বরে স্ত্রীকে নিজের কর্মস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল তিতাসের। সেই পরিকল্পনা ঘিরে ছিল তাদের নতুন স্বপ্ন। কিন্তু হঠাৎ স্বামীর মৃত্যুর খবরে সবকিছু যেন ওলটপালট হয়ে গেছে সুমাইয়ার।

শুধু স্ত্রী নন, তিতাসকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে কান্না থামছে না মা রেখা বেগমের। অন্যদিকে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা আফজাল শেখ।

মা রেখা বেগম জানান, গত বুধবার রাতে ছেলের সাথে তার শেষ কথা হয়েছিল। সেদিন তিতাস বলেছিলেন, ‘আগামীকাল বিকেলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে যাব, দোয়া কইরো মা।’ কিন্তু ছেলের সেই কথাই যে শেষ কথা হবে, তা কল্পনাও করতে পারেননি তিনি।

জানা গেছে, তিতাস শেখ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দেন। তিনি সেনাবাহিনীর ১ বীর ইউনিটের সদস্য হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন। তার বাবা আফজাল শেখ একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। ছোট ভাই আকরাম হোসেনও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিতাস ছিলেন সবার বড়।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাসের বুকের বাঁ পাশে লাগে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুক্রবার বিকেলে হেলিকপ্টারযোগে তিতাসের লাশ ফরিদপুরে আনা হয়। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনারসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

স্বামীর সাথে নতুন করে সংসার সাজানোর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সুমাইয়া, তা এখন শুধুই স্মৃতি। তিতাসের অকালমৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও পুরো এলাকায়।