সুদান ও মিশরের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্তের কাছে একটি স্বর্ণখনিতে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শনিবারের (১০ অক্টোবর) এ হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সুদানের মানবাধিকার সংস্থা ‘ইমার্জেন্সি লয়ার্স’। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, হামলার তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
খার্তুমভিত্তিক সংস্থাটি রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ জানায়, সুদানের উত্তরাঞ্চলের ওয়াদি এলাকায় বেসামরিক খনি শ্রমিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। এতে প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ৭২ জন নিহত হয়েছেন।
হামলার জন্য মিশরীয় সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে সংস্থাটি। তবে মিশর এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
স্বর্ণ উত্তোলনের জন্য পরিচিত জাবাল আল-উকাইদাত এলাকায় এ বছর এটি দ্বিতীয় হামলা। এর আগে জুনে একই স্বর্ণখনি এলাকায় হামলায় ২৩ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। ওই হামলার জন্যও মিশরকে দায়ী করা হয়েছিল। সে সময় মিশরীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, নিজেদের ভূখণ্ডে অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলন বন্ধে অভিযান চালানো হয়েছে।
সুদান ও মিশরের মধ্যে খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ হালাইব ট্রায়াঙ্গেল এলাকার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ইমার্জেন্সি লয়ার্সের দাবি, সাম্প্রতিক হামলাটি সুদানের ভূখণ্ডের ভেতরে হয়েছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত চলছে। এ যুদ্ধে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। জীবিকার তাগিদে অনেক মানুষ বিপজ্জনক পরিবেশে স্বর্ণ উত্তোলনের কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। এই স্বর্ণের বাণিজ্য সংঘাতের দুই পক্ষের অর্থ ও রসদের জোগানেও ভূমিকা রাখছে।
জুনের অভিযানে মিশরীয় সেনাবাহিনী ১৩৬ জন বিদেশিসহ মোট ২২৩ জনকে আটকের কথা জানিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, অবৈধ স্বর্ণ উত্তোলন ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে ওই অভিযান চালানো হয়।
সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহানকে সমর্থন করে মিশর। তবে সুদানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্তে চলমান সংঘাতকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখে দেশটি। সীমান্তবর্তী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ পাচার, অবৈধ বাণিজ্য ও মানব পাচারের ঘটনাও ঘটছে।


