...|...|...

অর্থনীতি

সুগন্ধি চাল রফতানির কোটা অর্ধেকে নামাল সরকার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:০৫
Shares
সুগন্ধি চাল রফতানির কোটা অর্ধেকে নামাল সরকার

ছবি: টাইমস টুডে গ্রাফিক্স

দেশের বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগে অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত সুগন্ধি চালের রফতানি বরাদ্দ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সংশোধিত এই বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে রফতানির অনুমোদনের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

নতুন ব্যবস্থায় বড় খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ছোট রপ্তানিকারক—সব প্রতিষ্ঠানকেই সংশোধিত কোটার সীমার মধ্যে থেকে রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। অনুমোদিত পরিমাণের অতিরিক্ত সুগন্ধি চাল রফতানির সুযোগ থাকবে না।

কোটা কমানোর পাশাপাশি রফতানি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকার ১০টি বাধ্যতামূলক শর্তও নির্ধারণ করেছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে রফতানি নীতি ২০২৪-২৭ অনুসরণ, পণ্যের মান যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাসময়ে জমা দেওয়া।

প্রতিটি চালান রফতানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও তথ্য যাচাই করবে। জাহাজীকরণ সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করার ক্ষেত্রেও আগের অনুমোদনের বিপরীতে কতটুকু পণ্য বাস্তবে রফতানি করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সুগন্ধি চালের মূল্য সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রতি কেজির ন্যূনতম এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) মূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া রফতানির অনুমোদন অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না। সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানের নামে অনুমোদিত চাল রফতানির সুযোগও রাখা হয়নি। জনস্বার্থে সরকার প্রয়োজনে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।

রফতানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে রফতানিকারকদের প্রয়োজনীয় পিআরসি জমা দিতে হবে।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত কোটার বিপরীতে মোট ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানি করেছে।

সরকারের মতে, রফতানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্যস্থিতি বজায় রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

এই বিবেচনায় রফতানি কোটা কমানোর পাশাপাশি পণ্যের মূল্য, রফতানির পরিমাণ, নথিপত্র যাচাই এবং রপ্তানি আয় দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।