জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এই প্রত্যর্পণ অনুরোধপত্র পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপিও ভারত সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি তিনি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ বা ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায় নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সব কর্মকাণ্ডের জন্য তারা দায়বদ্ধ। একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী বা অ্যাপ্রুভার হওয়া তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির রাষ্ট্রীয় অনুকূলে যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ভারত সরকারের কাছে পাঠানো এই চিঠির মাধ্যমে এখন তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ার আওতায় আনার জোর কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে আসামি করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ে বলা হয়, তারা 'সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি' (ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায়) নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী।
একই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে, যেখানে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রাষ্ট্রীয় অনুকূলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়।

