...|...|...

আইন ও আদালত

সন্ত্রাসবিরোধী ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলা

সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২৯ | আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:০৮
Shares
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ছবি: সংগৃহীত

সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতায় উসকানি, অবৈধ অর্থায়ন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তারা হলেন লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরা (৪৩) ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ (৪৭)।

সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত শুনানি শেষে তাদের রিমান্ডের এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক (নি.) শেখ বশির আহমেদ প্রত্যেককে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।

এদিন বিকেল ৫টার দিকে তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। পরে হাজতখানা থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে তাদের এজলাসে হাজির করা হয়।

শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। আসামিপক্ষে আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি দেন। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, আসামিরা রাজধানীর পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে ‘Bangladesh Awami League Supporters Alpha # 1’ ও ‘BBM Transparency’ নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং প্রচার করছিলেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পলাতক কয়েকজন শীর্ষ নেতার সাথে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ‘কালআজকাল.কম’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালানোর অভিযোগও আনা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে আয়োজিত একটি গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। পরে সংগঠনটির ১০১ সদস্যের একটি কমিটি তৈরি করা হয় বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে তাদের যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ।

রিমান্ড আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মামলার অন্য সহযোগীদের নাম-ঠিকানা ও অবস্থান শনাক্ত করা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা, ডিজিটাল আলামত ও অবৈধ অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করা, আসামিদের পরিচালিত অন্য ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজের সন্ধান পাওয়া এবং মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা।

এর আগে রবিবার (১১ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী থানাধীন ডিওএইচএস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের পরিদর্শক আলী আকবর।