জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ (সদর আংশিক-রায়পুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াসমিন লুবনার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) চাঁদপুর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি নথিভুক্ত করেন চাঁদপুর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কার্যালয়ের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই দম্পতির নামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়ায় কমিশন এ মামলার অনুমোদন দেয়।
দুদকের মামলার নথির তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের বিরুদ্ধে আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ কোটি কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এর মধ্যে নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। এবং তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াসমিন লুবনার বিরুদ্ধে অর্জিত অবৈধ সম্পদের পরিমাণ আরও বেশি। লুবনা নিজের নামে ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ গড়েছেন বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের নামে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে ১ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার ৩২৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার সম্পদ ও ব্যয়ের মোট পরিমাণ ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬৭ হাজার ৫৭৯ টাকা। এর বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ১ কোটি ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩৭ টাকা। ফলে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকার সম্পদ জ্ঞাত আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তার স্ত্রী রুবিনা ইয়াসমিন লুবনার নামে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টাকার স্থাবর এবং ২৪ লাখ ৬৬ হাজার ৪০ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪০ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার সম্পদ ও ব্যয়ের মোট পরিমাণ ১ কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকা বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
দুদকের অভিযোগ, রুবিনা ইয়াসমিন লুবনার নামে থাকা সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। তার স্বামী নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ স্ত্রীর নামে রাখা এবং তা ভোগদখলে রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। অপর আরেকটি মামলায় তার স্ত্রী রুবিনা ইয়াসমিন লুবনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং নয়নের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগের আলোকে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে অনিয়ম, টাকার বিনিময়ে নিজস্ব ব্যক্তিদের ঠিকাদারি বা টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, বাজার ও বাসস্ট্যান্ড থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চাঁদাবাজি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। পরবর্তীতে এই অবৈধ অর্থ নিজের এবং তার ওপর নির্ভরশীল স্ত্রীর নামে সম্পদে রূপান্তর করেন।
চাঁদপুর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কার্যালয়ের উপ সহকারী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম বলেন,জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে লক্ষ্মীপুর-২ (সদর আংশিক-রায়পুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াসমিন লুবনার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সাবেক সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন পলাতক রয়েছেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র হত্যার ঘটনায়ও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।


