২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমীকরণ পাল্টে গেছে। এই পটপরিবর্তনের সুবাদে বিভিন্ন ছাত্রনেতা নতুন পরিচয়ে সামনে এলেও তাদের অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা কম হয়নি। এরইমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের ছাত্রলীগের মিছিলে অংশ নেওয়ার একটি পুরোনো ছবি প্রকাশ্যে এনে তার কঠোর সমালোচনা করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মিছিলে হামলা করার জন্য ছাত্রলীগ মিছিল নিয়ে আসছে। তারা আমাদের মিছিল প্রতিহত করবে। ওই মিছিলে লাল কালি দিয়ে একটা ছবি মার্ক করা। আব্দুল কাদের পোস্ট দিয়েছে—লাল মার্ক করা একটা ছেলে আছে, সাদিক কায়েম। যিনি আজকে ডাকসুর ভিপি।’
নুরুল হক নুর বলেন, ‘আমরা আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে মিছিল করেছি। ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আওয়াজ উঠাতে হবে।
আর আজকের ডাকসুর ভিপি ও জামায়াতের নেতারা ওই আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের, যেটা বলে লুঙ্গির নিচে, গামছার নিচে ছিল, তারা আসতো আমাদের পিটাইত। এটা তো প্রমাণ তাই না? গণঅভ্যুত্থানের পর ক্রেডিট ছিনতাই করে তারা বিপ্লবী হয়ে গিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত-শিবিরের একটি ফরমূলা আছে। আপনি সমস্যায় আছেন, আপনাকে ইমোশনালি ব্ল্যাকমেইল করে হেল্প করে এটার প্রমাণ রাখবে। তারা যেখানেই যার সাথে দেখা হোক, ছবি তুলে প্রমাণ রাখে।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘আজকে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের নিয়ে লিখবে, কথা বলবে, এগুলো জবাব দিতে হবে আমরা মনে করি না। জামায়াত-শিবির ঘৃণার সমাজে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। জামায়াত-শিবির এই গণঅভ্যত্থান পরবর্তী ভাইরাসের মতো আমাদের দেশে ক্ষতি করেছে। আজকে যে ওসমান হাদির কথা আমরা বলছি, ওসমান হাদি গোটা দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণদের, বিপ্লবী সংগ্রামী তরুণদের মন জয় করতে পেরেছে তার কথাবার্তার মাধ্যমে। বিশেষ করে জুলাই ঐক্যকে সমন্বিত রাখার জন্য; রাজনৈতিক ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য আলাপ করেছিল। বাংলাদেশের রাজনৈতিক, ভৌগোলিক সমস্যা নিয়ে জোরাল কথা বলতো, যেটা অনেকে বলতো না। এই কথাগুলো আমরা বলে আসছি। কিন্তু অভ্যত্থানের পরে পরিচিত ছাত্রনেতারা দল গোছাতে, নিজেরা বিয়ে-শাদি করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘টেলিভিশনের টকশোতে বলেছিলাম—ওসমান হাদি নিজের পরিচয়েই পরিচিত। তাকে যে কবি নজরুলের পাশে কবর দেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে এটা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলবে—কেন কবি নজরুলের পাশে কবর দেওয়া হলো। তার জন্য প্রয়োজনে আলাদা একটা স্থান নির্ধারণ করা যেত।’


