...|...|...

রাজনীতি

ভারতে আন্দোলনকারীদের যে বার্তা দিলেন নাহিদ ইসলাম

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২:৩৩
Shares
ভারতে আন্দোলনকারীদের যে বার্তা দিলেন নাহিদ ইসলাম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত তরুণদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম ভারতের আন্দোলনরত তরুণদের পাশে রয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় নাহিদ ইসলাম এ সংহতি জানান। ভারতের বিরোধী দল ও তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) চলমান আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধ এবং আটক নেতাদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।

বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচনি ব্যবস্থার সংস্কার ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার দাবিতে আন্দোলনরত ভারতের তরুণদের সাথে তারা দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করছেন। ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারী ও নেতাদের আটক করা মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। সুষ্ঠু নির্বাচনি ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-নাগরিকদের ওপর এ ধরনের দমন-পীড়ন চলতে পারে না।

আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এ লড়াই আপনাদের একার নয়। ঢাকা থেকেও আমরা আপনাদের পাশে আছি।’ ক্ষমতার জবাবদিহি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন দাবিতে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ ঐক্যবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের তরুণদের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতার তুলনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ওই বছরের জুলাইয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তী সময়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সে সময় ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার গুলি চালানো হয়। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ওই ঘটনায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারতের শিক্ষার্থী, লেখক ও স্বাধীনচেতা কণ্ঠস্বরগুলো যে সংহতি জানিয়েছিল, তা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে বাংলাদেশ।

ভারতের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, শাহীনবাগের নারী সমাজ এবং জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে চলা সংগ্রাম তাঁদের অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের মতো ভারতেও নারীরা আন্দোলনের সামনের সারিতে রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন, ফ্যাসিবাদ কিংবা যেকোনো ধরনের ধর্মীয় আধিপত্যবাদ দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে না। কর্তৃত্ববাদ, সাম্প্রদায়িক ঘৃণা ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাকে এ অঞ্চলের জনগণ প্রত্যাখ্যান করে।

তার ভাষ্য, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে উঠতে হবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে, যেখানে ধর্ম, জাত, লিঙ্গ কিংবা শ্রেণির কারণে কোনো বিভেদ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, যে সমাজ সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করে, ভিন্নমতকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নির্ধারণ করে, সেই সমাজ কখনো গণতান্ত্রিক হতে পারে না।

ভারতে আটক রাজনৈতিক কর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, শারজিল ইমাম ও উমর খালিদকে বছরের পর বছর বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে। এ ছাড়া তরুণ নেতৃত্বসহ আরও কয়েক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারতের আন্দোলনরত তরুণ ও রাজনৈতিক বন্দিরা তাঁদের সহযোদ্ধা। তাঁদের সাহস পুরো দক্ষিণ এশিয়ার যুবসমাজকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি অবিলম্বে আটক নেতাদের মুক্তির দাবি জানান।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য বণ্টন, পরিবেশ রক্ষা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা তাঁদের অঙ্গীকার।

তিনি এমন এক দক্ষিণ এশিয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে রাষ্ট্রগুলো পরস্পরকে সমান মর্যাদা দেবে, সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে এবং সব দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে।

ভারতের গণতন্ত্রপন্থী জনগণের উদ্দেশে নাহিদ ইসলামের বার্তা, বাংলাদেশের জুলাই প্রজন্ম তাঁদের পাশে রয়েছে। তিনি আন্দোলনকারীদের দৃঢ় থাকার, পরস্পরকে রক্ষা করার এবং সাম্প্রদায়িক ঘৃণা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান। একই সাথে বিভাজন ও ফ্যাসিবাদ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।