সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাবেক সভাপতি মো. সাকিল হোসেনের চায়ের দোকান গুঁড়িয়ে দেওয়া, মালামাল লুটপাট ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ফিংড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মাহফুজসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সাকিল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে সাকিলের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তিনি জানান, গত ২৩ অক্টোবর সকাল আটটার দিকে বাঁশের লাঠি ও লোহার রড নিয়ে অভিযুক্তরা তার চায়ের দোকানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। এ সময় তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি নগদ টাকাও নিয়ে যাওয়া হয়।
সাকিল জানান, তারা এল্লারচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করেন। প্রায় ৩০ বছর আগে তার শ্বশুর সরকারি জায়গায় চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। দোকান প্রতিষ্ঠার ছয় থেকে সাত বছর পর এর দক্ষিণ পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১৭ সালে দোকানের উত্তর পাশে একটি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নির্মাণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়। এরপর থেকে তিনি শ্বশুরের ওই দোকানে চায়ের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। পাশাপাশি ফিংড়ী ইউনিয়ন জাসাসের সাবেক সভাপতি হিসেবে দোকানের ওপরে দলীয় সাইনবোর্ড লাগিয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমও পরিচালনা করতেন।
সাকিলের অভিযোগ, গত ২৩ অক্টোবর সকালে অভিযুক্তরা তার দোকানে হামলা চালিয়ে সেটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেন। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া দোকান থেকে আনুমানিক ১০ হাজার টাকার মালামাল, ক্যাশে থাকা দুই হাজার টাকা এবং তার পকেটে থাকা পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হামলার সময় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। যাওয়ার সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সাকিল।
তিনি বলেন, এখন অভিযুক্তরা ওই জায়গা বেড়া দিয়ে ঘিরে সেখানে ইবতেদায়ি মাদ্রাসা নির্মাণের কথা বলছেন। একজনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে মাদ্রাসা নির্মাণের কোনো আইন আছে কি না, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাকিলের ভাষ্য, জায়গাটি সরকারি হলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরকার সেটি উচ্ছেদ করতে পারে। কিন্তু অভিযুক্তরা কেন তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করলেন, তার বিচার চান তিনি। এ ঘটনায় ন্যায়বিচারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপও কামনা করেন সাকিল।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফিংড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান বলেন, আল্লাহ ও রাসুলকে সন্তুষ্ট করার জন্য এলাকাবাসীর সাথে আমি ভাঙচুর করতে গিয়েছিলাম। মাদ্রাসা করার জন্য তাকে জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হলেও সে আমাদের কথা শোনেনি। তাই ভাঙচুর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফিংড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, চায়ের দোকান ও দলীয় কার্যালয়ের আড়ালে সাকিল মাদক ব্যবসা, জুয়া ও চোরাকারবারির সাথে জড়িত ছিলেন। এতে মসজিদের মুসল্লিদের অসুবিধা হচ্ছিল। এ ছাড়া সাকিল তাকে গালিগালাজ করেছিলেন বলেও দাবি করেন জাহাঙ্গীর। এসব কারণে তিনি ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন।
ফিংড়ী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নাঈম বলেন, আধিপত্য বিস্তার এবং বিশেষ কারণে একটি মহল সাকিলের জীবিকার একমাত্র উৎসটি ধ্বংস করে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
সাতক্ষীরা থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সোহেল মোল্লা বলেন, এ ঘটনায় সাকিল একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


