...|...|...

সারাদেশ

সাজেকে অস্থিরতার নেপথ্যে কী

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:২২
Shares
সাজেকে অস্থিরতার নেপথ্যে কী

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি বর্তমানে এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। স্থানীয় পাহাড়ি সংগঠনগুলোর ডাকা একের পর এক অবরোধ কর্মসূচির কারণে টানা অচল অবস্থা বিরাজ করছে পুরো এলাকায়। এতে একদিকে যেমন থমকে গেছে স্থানীয় পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্য, অন্যদিকে দেখা দিয়েছে চরম সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট।

পার্বত্যএলাকার আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর তৎপরতা, নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনের অবস্থান পর্যালোচনা করেও সাজেকে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

পাহাড়ি দুটি সংগঠনের ডাকে টানা অবরোধে সাজেকে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয় পর্যটন অর্থনীতি ও জীবন জীবিকায় এই পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করেছে। তবে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও পর্যটন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লেগে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় পর্যটন খাতের ব্যবসায়ীরা।

অবরোধকারী বা আন্দোলনকারীদের সাথে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের আলোচনার পরও তাৎক্ষণিক সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নেয়া খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়া বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, সরকার কৌশলে এই সমস্যার সমাধান করতে চাইছে। তার কথায় আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে একটি অস্ত্রধারী গ্রুপকে সরিয়ে আরেকটি গ্রুপের জন্য জায়গা করে দেয়া রাষ্ট্রীয় বাহিনী বা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। সরকার সকল অবৈধ অস্ত্রধারীদের সাজেক এলাকা থেকে বিতাড়িত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

পাহাড়িদের সংগঠন সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এবং সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি অবরোধের প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এনেছে 'অস্ত্রধারী জেএসএস সন্তু গ্রুপের' উপস্থিতি। সংগঠনের আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা অভিযোগ করেন, ৩১শে অগাস্ট থেকে সাজেকের মাচালং এলাকায় অস্ত্রধারী গ্রুপ অবস্থান নিয়েছে। ওই গ্রুপের উপস্থিতি পাহাড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা- চাষাবাদ ব্যহত করছে।

আন্দোলনকারীদের ভাষায়, 'অস্ত্রধারী সন্তু গ্রুপকে' সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবরোধ চলবে। প্রায় দুই মাস যাবৎ তারা সেখানে অবস্থান করতেছে। প্রত্যেকটা পাড়া গ্রামের ময়মুরব্বী যারা দায়িত্বে থাকেন, তাদের মারধর এবং হুমকি, মোবাইল ছিনতাই করে নেয়া এবং অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের কাজ করছে। দেখা যাচ্ছে ওখানে কয়েশ পরিবার ঘরছাড়া হয়ে দিনযাপন করছেন।’

'অস্ত্রধারী সন্তু গ্রুপ’কে ওই এলাকা থেকে সরিয়ে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করা- এটা তাদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানান আন্দোলনকারীরা।