১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণ শুরুর কথা ছিল। সে অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমতি না মেলায় নির্ধারিত দিনে দ্বীপটিতে যেতে পারছেন না পর্যটকেরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আগামী ৫ অথবা ৬ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে।
কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) জেটি ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ ছেড়ে যায়। সাগরপথে এই ঘাট থেকে দ্বীপটির দূরত্ব প্রায় ১২০ কিলোমিটার।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকেরা সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ পর্যটক দ্বীপটিতে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
গত ১২ অক্টোবর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় পর্যটক চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর ২৫ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগের বছরের নিয়মগুলো বহাল রাখা হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তে নভেম্বর মাসে দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসার বিধান এবং ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে রাতযাপনের সুযোগ রাখা হয়।
তবে পর্যটক, হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ও জাহাজমালিকদের মধ্যে এ নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিলে ২৭ অক্টোবর নতুন প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে সরকার। এতে ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণের পাশাপাশি দ্বীপে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়।
কিন্তু ভ্রমণের সুযোগ ঘোষণা করা হলেও জাহাজ চলাচলের অনুমোদন এখনো নিশ্চিত হয়নি। সেন্টমার্টিনগামী জাহাজমালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম জানান, জাহাজ চালু করতে একাধিক সংস্থার অনুমোদন প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, নৌপরিবহন অধিদফতরের অনুমতি, বিআইডব্লিউটিএর রুট পারমিট এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের অনুমোদন।
তিনি জানান, এসব অনুমোদনের প্রক্রিয়া এখনো সম্পন্ন হয়নি। পাশাপাশি পর্যটকদের তথ্য নিবন্ধনের জন্য বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের যে সফটওয়্যার চালুর কথা রয়েছে, সেটিও প্রস্তুত হয়নি। ফলে ১ নভেম্বর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ৫ বা ৬ নভেম্বর থেকে জাহাজ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে পর্যটকদের আগমনের অপেক্ষায় দ্বীপের ব্যবসায়ীরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য দ্বীপটি খুলে দেওয়ার খবরে স্থানীয় কয়েক হাজার মানুষ আশাবাদী হয়েছিলেন। পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করতে ২৩০টির বেশি হোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ প্রস্তুত করা হয়েছিল।
কিন্তু জাহাজ চলাচলের অনুমতি না থাকায় নির্ধারিত সময়ে পর্যটকেরা দ্বীপে যেতে পারছেন না। কবে নাগাদ জাহাজ চলাচল শুরু হবে, তা নিয়েও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য। কেউ ৫ থেকে ৭ নভেম্বরের কথা বলছেন, আবার কারও ধারণা ১৫ নভেম্বরের আগে জাহাজ চলাচল শুরু নাও হতে পারে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি থাকলেও নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত না করে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি জাহাজের ফিটনেস ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাইয়ের পরই অনুমোদন দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের বিআইডব্লিউটিএ জেটি ঘাট ছাড়া টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপ কিংবা উখিয়া থেকে নৌযানে সেন্টমার্টিন যাওয়ার সুযোগ নেই। কেবল সরকার অনুমোদিত জাহাজে অনলাইন নিবন্ধনের মাধ্যমে পর্যটকেরা দ্বীপটিতে যেতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক জানান, গত বছর পর্যটকবাহী একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবার জাহাজগুলোর ফিটনেস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সবকিছু সন্তোষজনক হলেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।
এদিকে জাহাজ চলাচলের চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণে শনিবার বেলা ১১টায় প্রশাসনের সাথে জাহাজমালিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই জাহাজ চলাচল শুরুর সময় নিয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।


