...|...|...

জাতীয়

সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৪৭ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:০৪
Shares
সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের পূর্ণাঙ্গ ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা আরও বাড়াতে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও কম্পিউটার সায়েন্সে দক্ষ সদস্যদের কাজে লাগিয়ে নতুন ইউনিটকে শক্তিশালী করা হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) বোর্ডরুমে কলেজটির পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পুলিশ সদর দফতর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিজ নিজ পর্যায়ে সাইবার অপরাধের তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে এসব উদ্যোগ মূলত অস্থায়ী বা অ্যাডহক কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। সাইবার অপরাধের ধরন ও পরিধি বাড়ায় এখন একটি স্থায়ী, সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ইউনিটে প্রযুক্তিগত জ্ঞানসম্পন্ন পুলিশ সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ শনাক্ত, তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

পুলিশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করে তুলতে দেশের অভ্যন্তরে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে হবে।

প্রয়োজনে বিদেশি প্রশিক্ষক এনে কিংবা আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সুবিধা তৈরি করে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এর ফলে সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশ আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুতি নিতে পারবে।

সভায় বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের ২০তম পরিচালনা বোর্ড সভার কার্যবিবরণী উপস্থাপন করা হয়। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর তা অনুমোদন দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগের সভায় নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

সভায় পুলিশ স্টাফ কলেজের ভূমি ব্যবহারের বিষয়ে এমআরটির প্রস্তাব, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্সের বিদেশি অংশের জন্য অর্থ বরাদ্দ এবং কলেজের অধীনে পূর্ণাঙ্গ ও স্বতন্ত্র ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ ছাড়া পিএসসির বিধিমালার সরকারি অনুমোদন, বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণকে পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার শর্ত হিসেবে যুক্ত করার প্রস্তাব এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব পুলিশ একাডেমিজের (ইন্টারপা) সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ আয়োজনের বিষয়ও সভায় উঠে আসে।

পুলিশ স্টাফ কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নতুন উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স এবং মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স কোর্স চালুর প্রস্তাব রয়েছে।

সভায় পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপন এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর পুলিশ কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

পরিচালনা বোর্ডের সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ স্টাফ কলেজের ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন।