...|...|...

সারাদেশ

সময়মতো খাল খনন না হওয়ায় ফেরত গেল প্রায় ৩ কোটি টাকা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:০১ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:৪৯
Shares
সময়মতো খাল খনন না হওয়ায় ফেরত গেল প্রায় ৩ কোটি টাকা

নির্ধারিত সময়েও সম্পন্ন হয়নি খাল খননের কাজ। ছবি: টাইমস টুডে

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া উপজেলায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খাল পুনঃখননের কাজ শেষ করতে পারেনি প্রশাসন। ফলে সরকারের বরাদ্দ দেওয়া প্রায় ২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় কোষাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ফেরত দেওয়া ওই বরাদ্দের অর্থ দিয়ে পুনরায় খাল খনন হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় তারা।

জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়ায় পৌনে ৬ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য সরকার ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু মাত্র ১ দশমিক ৩৯০ কিলোমিটার কাজ করানো সম্ভব হয়েছে। খরচ হয়েছে ৩৭ লাখ টাকার বেশি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভুনবীর ইউনিয়নের আলিয়াছড়া খাল পুনঃখননের জন্য ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা বরাদ্দ ছিল। ২ দশমিক ৭৫০ কিলোমিটার খননের কথা থাকলেও ৩০ জুনের মধ্যে মাত্র ৬৪০ মিটার খনন করা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টাকা।

উপজেলা পিআইও প্লাবন পাল বলেন, বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এ বছর আগাম বৃষ্টি হওয়ায় হাওরের পানি বৃদ্ধি পায়। খননের অংশটুকুতে পানি চলে আসায় কাজ করা সম্ভব হয়নি। অব্যবহৃত ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

কুলাউড়া উপজেলায় ভূকশিমইল, বরমচাল ও ভাটেরা ইউনিয়নের চকিরমোড়া থেকে উত্তরমুখী আন ফানাই পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ খালের মধ্যে ৩ দশমিক ০৯ কিলোমিটার খননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ ৩ হাজার ৮০ টাকা বরাদ্দ ছিল। গত ১৪ মে কাজ শুরু হলেও ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ৭৫০ মিটার খনন সম্পন্ন হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় ৩২ লাখ টাকা।

উপজেলা পিআইও রাজু চন্দ্র পাল বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজের মান বজায় রেখে ৭৫০ মিটার খননকাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। টানা বৃষ্টিপাতের কারণে অবশিষ্ট অংশের কাজ সম্ভব হয়নি। অব্যবহৃত ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা কোষাগারে ফেরত গেছে।

ওই এলাকার কৃষক আব্দুর রহমান ও রাজ্জাক মিয়া জানান, দীর্ঘদিন পর খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছিল। খননকাজ দেখে কৃষকদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছিল। হঠাৎ শুনি কাজের সময় শেষ। আর খনন হবে না। টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির মৌসুমে এত স্বল্প সময়ে কাজ করা সম্ভব নয়। ধীরগতিতে কাজ হওয়ায় বেশির ভাগ খাল খনন করা সম্ভব হয়নি। সময় বাড়িয়ে পুনরায় খাল খননের কাজ শুরু করার দাবি জানাই।

শ্রীমঙ্গল ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান ও কুলাউড়ার ইউএনও সানজিদা আক্তার জানান, অতিবৃষ্টি ও পানি বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। কাজ শেষ না হওয়ায় অব্যবহৃত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। তারা পুনরায় খননকাজের জন্য আবেদন করে রেখেছেন।

মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে খননকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। আমরা খাল খননের জন্য পুনরায় বরাদ্দ ও কাজের সময় বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছি।