ইসলামে বিবাহকে একটি পবিত্র পারিবারিক বন্ধন ও অন্যতম ইবাদত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। সামর্থ্যবান যুবকদের যথাসময়ে বিয়ের উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি এতে পাত্র-পাত্রীর স্বাধীন সম্মতিকে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ প্রাধান্য। প্রাপ্তবয়স্ক নারী বা পুরুষের মতামত উপেক্ষা করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ ইসলামী শরীয়তে নেই।
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, অভিভাবকেরা যেন সন্তানের অনিচ্ছায় তাদের বিয়ের ব্যবস্থা না করেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত সহিহ বুখারির এক হাদিসে বলা হয়েছে, নারী (কুমারী বা বিধবা) অনুমতি বা সম্মতি ছাড়া তার বিবাহ সম্পাদন করা যাবে না।
এমনকি জোর করে বিয়ে দেওয়ার পর তা বাতিলের নজিরও রয়েছে সুন্নাহতে। খানসা বিনতে খিজাম (রা.) নামে এক নারীকে তার বাবা অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিয়ে দিলে তিনি মহানবী (সা.)-এর কাছে অভিযোগ জানান। নবীজি (সা.) তাৎক্ষণিক সেই বিয়ে বাতিল ঘোষণা করেন (সহিহ বুখারি: ৫১৩৮)। অন্য এক ঘটনায়, এক নারী তার বাবার দেওয়া বিয়ে নিয়ে অভিযোগ করলে রাসুল (সা.) সিদ্ধান্তটি পুরোটাই ওই নারীর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেন (ইবনে মাজাহ: ১৮৭৪)।
বিখ্যাত ইসলামী আইনবিদ ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) স্পষ্ট করেছেন, সন্তান যাকে পছন্দ করে না, তার সাথে বিয়ে দিতে বাধ্য করা মা-বাবার উচিত নয়। ছেলে বা মেয়ে এমন বিয়ে প্রত্যাখান করলে তা মা-বাবার অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য হবে না।
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ এ প্রসঙ্গে বলেন, ছেলে বা মেয়ের সম্মতি ছাড়া কেবল অভিভাবকদের ইচ্ছায় বিয়ে দেওয়া ইসলামে কোনোভাবেই বৈধ নয়।
তবে ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে মা-বাবার মতামত ও অভিজ্ঞতাকে শ্রদ্ধাভরে বিবেচনা করা উচিত। একইভাবে অভিভাবকদেরও উচিত সন্তানদের পছন্দকে সম্মান জানানো। আর জোরজবরদস্তির পরিস্থিতি তৈরি হলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতিদের পরামর্শ নিয়ে সমাধান করা শ্রেয়।

