...|...|...

জাতীয়

সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক কাল

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬, রাত ৮:৪৬ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৯
Shares
সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক কাল

জুলাই জাতীয় সনদে থাকা সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সংসদের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ প্রথম বৈঠকে বসতে যাচ্ছে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট)।

সংসদের কেবিনেট কক্ষে দুপুর ১২টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার কৌশল ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে।

গত ১৩ জুলাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কমিটিতে কোনো সদস্যের নাম দেওয়া হয়নি। কমিটি গঠনের দিনই বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে এটি প্রত্যাখ্যান করে।

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তাদের ধারণাগত মতপার্থক্য রয়েছে। তারা সংবিধান সংস্কারের পক্ষে থাকলেও এ ধরনের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে একমত নয়।

কমিটির প্রকাশিত কার্যপরিধি অনুযায়ী, সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ তৈরি করে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়াই হবে তাদের মূল দায়িত্ব। তবে কমিটি কীভাবে কাজ করবে এবং কত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রথম বৈঠকে কমিটির কর্মকৌশল নির্ধারণ করা হবে। সংবিধানে সংশোধনের বিষয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, গণমাধ্যম সম্পাদকসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে। এরপর প্রতিবেদন তৈরি করে সংসদে জমা দেওয়া হবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় সংশোধনী বিল উত্থাপন করবে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের অক্টোবরে সংবিধান সংস্কার কমিশনসহ ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বাধীন সংবিধান সংস্কার কমিশন বিভিন্ন অংশীজনের মতামত ও জনমত জরিপের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেয়।

পরে বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ। এতে সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে- সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে (পিআর) সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, উচ্চকক্ষের ক্ষমতা নির্ধারণ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো এবং প্রধানমন্ত্রীর একাধিক পদে থাকার বিধানসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

এসব প্রস্তাবের কয়েকটি বিষয়ে বিএনপির ভিন্নমত রয়েছে। দলটি উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।

এদিকে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গত বছরের নভেম্বরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ জারি করা হয়। এর ভিত্তিতে সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়নে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। তবে নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন চলছে।