শেরপুর সদর উপজেলার কয়েকটি গ্রামে একটি পাগলা কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৪৮ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের সাপমারী এবং লছমনপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর দড়িপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। কুকুরটির বেপরোয়া আক্রমণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আহত ৪৮ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে। তারা হলেন সাপমারী এলাকার বাহেজ উদ্দিন (৭০), কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া এলাকার মামুন (৩২) এবং শেরীপাড়া এলাকার আবুল হোসেন (৫০)।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকেই একটি কুকুর অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। সাপমারী, কৃষ্ণপুর দড়িপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় বা আঁচড় দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, আহতদের ক্ষতস্থান সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করার পর দ্রুত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে। তবে জনবল সংকটের কারণে মাত্র একজন নার্স ভ্যাকসিন প্রয়োগ করায় রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ সময় লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে আনসার সদস্যদের সাথে রোগী ও স্বজনদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
চার বছর বয়সী এক শিশুর স্বজন মো. আব্দুল আলীম বলেন, ভোর ছয়টায় আমার বাচ্চাকে কুকুরে কামড়িয়েছে। সকাল সাতটায় হাসপাতালে এসেছি। কিন্তু বেলা এগারোটা পেরিয়ে গেলেও ভ্যাকসিন পাইনি। বারবার বাইরে যেতে বলা হচ্ছে।
আরেক রোগীর স্বজন মো. রোকন বলেন, আমার মেয়ে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ পেছন থেকে এসে কুকুরটি পিঠে আঁচড় দেয়। হাসপাতালে ভ্যাকসিন দিতে অনেক সময় লাগছে।
কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সেকান্দর আলী বলেন, দ্রুত কুকুরটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু ও মাঠে কাজ করা কৃষকরা সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে আছেন।
জেলা সদর হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. একেএম মাহমুদুল হাসান সোহাগ বলেন, সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ৪৮ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে।
শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সরকারের দেওয়া জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সময় লাগলেও সবাইকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, পাগলা কুকুরটিকে দ্রুত শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় আরও মানুষ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


