...|...|...

ধর্ম

শুক্রবার মারা গেলে সত্যিই কি জান্নাত লাভ সহজ হয়

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২২
Shares
শুক্রবার মারা গেলে সত্যিই কি জান্নাত লাভ সহজ হয়

ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম ধর্মে জুমার দিনকে সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন এবং সাপ্তাহিক ঈদের দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র এই দিনটির যেমন রয়েছে বিশেষ মর্যাদা ও ফজিলত, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে জুমার দিনে বা জুমাবারে মৃত্যুবরণ করা নিয়ে বিভিন্ন ধারণাও প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, শুক্রবারে মারা গেলে সরাসরি জান্নাত লাভ সহজ হয় বা নিশ্চিত হয়ে যায়। কোরআন ও হাদিসের আলোকে এই ধারণার ভিত্তি কতটুকু, তা নিয়ে আলেমদের মতামত ও সঠিক ব্যাখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো।

সালমান ফারসী (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন— যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, এরপর তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর মসজিদে যায়, আর দু’জনের মধ্যে ফাঁক করে না এবং তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ সালাত (নামাজ) আদায় করে। আর ইমাম যখন (খুতবার জন্য) বের হন তখন চুপ থাকে। তার এ জুমা এবং পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী যাবতীয় গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৬৪)

আবার জুমার নামাজের বিশেষ ফজিলত যেমন রয়েছে, তেমনি এই দিনে বিশেষ একটি মুহূর্ত রয়েছে যে সময়ে বান্দার দোয়া কবুল হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— জুমার দিনে একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে। কোনো মুসলিম সে মুহূর্তটিতে আল্লাহর নিকট কোনো কল্যাণ প্রার্থনা করলে, মহান আল্লাহ তাকে তা দেবেন। এ মুহূর্তটি অতি অল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৪৬)

আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন— যে কোনো মুসলিম ব্যক্তি জুমাবারে বা জুমার রাতে ইন্তেকাল করবে, তাকে আল্লাহ তা’আলা কবরের ফিতনা (কবরের আযাব ও পরীক্ষা বা মুনকার-নাকিরের সওয়াল-জবাব) থেকে হেফাজত করবেন। (মেশকাত, হাদিস: ১৩৬৭; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৪)

এই হাদিস দ্বারা জুমাবারে মারা গেলে কবরের আযাব থেকে রক্ষা পাওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তবে জুমাবারে বা জুমার দিনে কেউ মারা গেলে জান্নাত পাওয়া যাবে কিংবা জান্নাত লাভ সহজ হবে— সরাসরি এমন কোনো বিষয় কোরআন ও হাদিসে আসেনি।

এ বিষয়ে জনপ্রিয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহসহ বেশিরভাগ আলেমদের মত, জুমাবারে মারা গেলে মুমিন বান্দা যে কবরের ফিতনা থেকে রক্ষা পাবেন, তা হাদিস দাঁড়াই স্বীকৃত। তবে এদিন জান্নাতে প্রবেশ করবে সরাসরি এমনটা ভেবে নেয়া ঠিক নয়। যদিও বিভিন্ন হাদিস অনুযায়ী এমনটা আশা করা যায়— মৃত্যুর পর যার পরকালের প্রথম ধাপ কবরের হিসাব-নিকেশ সহজ হবে, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলোও সহজ হবে।

কবরের আজাব থেকে মুক্তি এবং জান্নাত প্রাপ্তি মূলত আল্লাহর দয়া এবং বান্দার ঈমান ও আমলের ওপর নির্ভরশীল।

আল্লাহ আমাদের সবার জন্য ভালো মৃত্যু নির্ধারিত করে রাখুন। ভালো মৃত্যু, কবরের আজাব মাফ ও আখিরাতে শান্তিতে থাকার জন্য যেমন আমল করা দরকার- সে রকম আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।