...|...|...

ধর্ম

জুমার দিন দরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলত

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:০০ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:২৯
Shares
জুমার দিন দরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলত

ছবি: সংগৃহীত

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা মুমিনদের নবীজি (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে জুমার দিন ও জুমার রাতে মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠের বিশেষ গুরুত্ব ও ফজিলত রয়েছে।

কোরআনে দরুদ পাঠের নির্দেশ
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ (সুরা আহজাব, আয়াত: ৫৬)

আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তাআলার দরুদ পাঠের অর্থ হলো, তিনি ফেরেশতাদের সামনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রশংসা করেন। আর ফেরেশতাদের দরুদ পাঠের অর্থ হলো, তারা নবীজি (সা.)-এর জন্য রহমত ও বরকতের দোয়া করেন। (ফাতহুল বারি, ৮/৩৯২)

একবার দরুদ পাঠে ১০টি রহমত
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠের অন্যতম ফজিলত হলো, একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করেন।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তাআলা তার প্রতি ১০টি রহমত বর্ষণ করেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৪৮৫)

তাই প্রতিদিনের আমলের অংশ হিসেবে নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা মুমিনের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত।

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনে মহানবী (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার জন্য হাদিসে বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

আওস ইবন আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠতম দিনটি হচ্ছে জুমার দিন। এ দিনে আদমকে (আ.) সৃষ্টি করা হয়েছিল। এ দিনই তাঁর রুহ কবজ করা হয়েছিল। এ দিন শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং এ দিনই বিকট শব্দ করা হবে। কাজেই এ দিন তোমরা আমার ওপর বেশি করে দরুদ পড়ো। কারণ, তোমাদের দরুদগুলো আমার কাছে পেশ করা হয়।’

সাহাবিরা জানতে চাইলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনার শরীর মাটিতে মিশে যাওয়ার পর কীভাবে আমাদের দরুদ আপনার কাছে পেশ করা হবে? তিনি বলেন, ‘মহান আল্লাহ মাটির জন্য নবী-রাসুলদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করে দিয়েছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

জুমার রাতেও দরুদ পাঠের ফজিলত
জুমার দিন ও রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠের ব্যাপারে আরও একটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

আনাস ইবন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিন ও জুমার রাতে আমার প্রতি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো। কারণ, যে আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহুল জামে, হাদিস: ১২০৯)

যেভাবে আমল করবেন
জুমার দিন ও রাতে কাজের ফাঁকে, অবসর সময়ে এবং অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা যায়। দরুদ পাঠের জন্য নির্দিষ্ট একটি বাক্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে হয় না; হাদিসে বর্ণিত দরুদে ইবরাহিমসহ বিভিন্ন সহিহ দরুদ পাঠ করা যায়।