...|...|...

জাতীয়

লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:২০ | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:১৫
Shares
লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের

লঞ্চভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের। ফাইল ছবি

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রী পরিবহনকারী লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা। সংগঠনটির প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৫০ পয়সা ভাড়া বাড়ানো হলে দূরত্বভেদে যাত্রীদের ভাড়া ৫১ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নৌপরিবহন, রেলপথ ও সেতু বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়। এতে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট গোলাম নবী আলমগীর স্বাক্ষর করেন।

চিঠিতে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বের লঞ্চের ভাড়া বর্তমান কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের জন্য বর্তমান ২ টাকা ৫২ পয়সার পরিবর্তে ৪ টাকা ২ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। একইসাথে সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

লঞ্চ মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এতে জ্বালানি ব্যয় প্রায় ১৮ শতাংশ বেড়েছে। ডিজেল ও মবিলের ওপর নির্ভরশীল অভ্যন্তরীণ নৌযানগুলোর পরিচালন ব্যয়ে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বলে দাবি তাদের।

চিঠিতে জ্বালানির পাশাপাশি নৌযান পরিচালনার অন্যান্য ব্যয় বৃদ্ধির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। মালিকদের দাবি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন ফি ও চার্জও বেড়েছে। এর মধ্যে কনজারভেন্সি চার্জ ৩০ শতাংশ, রুট পারমিট ফি ৫০ শতাংশ এবং বার্দিং চার্জ ১১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া রুট পারমিটের আবেদন ফিও ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বিশেষ অনুমতি, স্থগিত রুট পারমিট পুনর্বহাল এবং মালিকানা, নাম বা রেজিস্ট্রেশন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন বিভিন্ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

লঞ্চ মালিকদের ভাষ্য, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, ডিজি শিপিংয়ের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন ফি, নাম পরিবর্তন ফি, আয়কর ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতেও ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি নৌযান নির্মাণ ও মেরামতে ব্যবহৃত প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং ও অন্যান্য স্পেয়ার পার্টসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ডকিংসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি যাত্রী সংকটের কারণে লঞ্চ ব্যবসায় চাপ আরও বেড়েছে বলে দাবি মালিকদের। তাদের মতে, সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির ফলে অনেক যাত্রী এখন সড়কপথকে বেছে নিচ্ছেন। ফলে লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী না পাওয়ায় আয় কমছে। অন্যদিকে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে লঞ্চ ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ৪ টাকা ৪৫ পয়সা এবং এর বেশি দূরত্বে ৪ টাকা ২ পয়সা ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থা। একইসাথে সর্বনিম্ন যাত্রীভাড়া ৩৫ টাকা করার প্রস্তাবও দিয়েছে তারা।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ভাড়া কার্যকর করা সম্ভব না হলে অন্তত বর্ধিত ডিজেলের দাম প্রত্যাহার করতে হবে।

এর আগে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয়ের কথা বলে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। নতুন দরে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৫৫ টাকা। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে এসব নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।