...|...|...

চট্টগ্রাম

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এলজিইডির তদন্ত শুরু

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১২:১৬ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:৪৮
Shares
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে এলজিইডির তদন্ত শুরু

অভিযুক্ত প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন। ছবি: টাইমস টুডে

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পাসে ‘৫ শতাংশ’ কমিশন আদায়ের অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি)। একইসাথে তদন্ত চলাকালে নিজের পক্ষে কয়েকজন ঠিকাদারকে বক্তব্য দিতে বলার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে নিজ জেলায় কর্মরত থাকা এবং একাই তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা পরিষদে অভিযোগের সরেজমিনে তদন্ত করেন এলজিইডির নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এস এম মহসীন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মণ্ডল এবং লক্ষ্মীপুর জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী।

তদন্তের শুরুতে কয়েকজন ঠিকাদারের পৃথক বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। পরে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মনোয়ারা অ্যান্ড ফাল্গুনী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জহির হাওলাদারের লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য নেন তদন্ত কর্মকর্তা।

জহির হাওলাদার দাবি করেন, তদন্ত কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ঘুষ দাবির অভিযোগসংক্রান্ত লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তদন্ত শুরুর আগেই উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন নিজের পরিচিত কয়েকজন ঠিকাদারকে এনে তার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করেন।

এদিকে মেসার্স খাদিজা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. বাবলু পাঠান মুঠোফোনে বলেন, প্রকৌশলী ইকবাল হোসেনের বাড়ির পাশেই আমার বাড়ি। লোক মারফত আমাকে এবং আরও কয়েকজনকে তদন্ত কর্মকর্তার সামনে তার পক্ষে কথা বলতে বলা হয়েছিল। আমার সাথে আরও দুজন সেখানে বক্তব্য দিয়েছেন।

অভিযোগকারী ঠিকাদার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেনকে সদর উপজেলা থেকে অপসারণের দাবিও জানান।

এদিকে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ জেলায় পদায়ন করা যাবে না। একইসাথে নির্ধারিত সময় শেষে বদলি নিশ্চিত করারও নির্দেশনা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ওই নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পরও ইকবাল হোসেন লক্ষ্মীপুরেই কর্মরত রয়েছেন। পাশাপাশি তিনি একাই তিনটি উপজেলার দায়িত্ব পালন করায় প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এর আগে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে যিনি অভিযোগ করছেন, তিনিই অপরাধী।

তদন্ত কর্মকর্তা এ এস এম মহসীন বলেন, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে। নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন এলজিইডি সদর দফতরে জমা দেওয়া হবে।

এর আগে একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, নির্মাণাধীন মসজিদ, কালভার্ট, গভীর নলকূপসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল পাসের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ‘৫ শতাংশ’ অলিখিত কমিশন নেওয়া হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ১৫ জুলাই এলজিইডি সদর দফতর অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিল আটকে রেখে কমিশনের চাপ সৃষ্টি, একাধিক উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন, ঠিকাদার ও অধস্তন কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ এবং সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিজ জেলায় দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।