বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) টিআইবি লক্ষ্মীপুর।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ প্রতীকী কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে সনাক লক্ষ্মীপুরের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক জেড এম ফারুকী, সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, সদস্য আবুল মোবারক ভূঁইয়া, আহমেদ হোসেন, হাবিবুর রহমান সবুজ, মনিকা চক্রবর্তী, রাশেদুল ইসলাম, মো. মোছলেহ উদ্দিন ও রাজীব হোসেন রাজুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ অনুযায়ী দেশে ১৭ লাখ ৮০ হাজার শিশু শ্রমে নিয়োজিত, যার মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুরা ডাম্পিং স্টেশন ও সড়ক থেকে বর্জ্য সংগ্রহ, প্লাস্টিক, কাগজ ও টেক্সটাইল বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং ই-বর্জ্য ও চিকিৎসা বর্জ্যের মতো ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান বাছাইয়ের কাজে নিয়োজিত থাকে।
তারা আরও বলেন, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই এসব কাজে অংশ নেওয়ায় শিশুরা বিষাক্ত পদার্থ, ধারালো বস্তুর আঘাত এবং বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকির মুখে পড়ে। অথচ বাংলাদেশে বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম এখনও অনেকাংশে অপ্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের এই খাতে ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।
বক্তাদের মতে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা ও উদাসীনতার প্রতিবাদেই প্রতীকীভাবে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করা হয়েছে।
তারা বলেন, ২০২২ সালে বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বাস্তবায়ন ও তদারকির ঘাটতির কারণে এ খাতে শিশুশ্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। শিশুশ্রম নিরসনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ ও নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান বক্তারা।


