দেশের বৃহত্তম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় মেরামতকাজের মান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিদর্শনকালে কোচ মেরামতের বিভিন্ন ত্রুটি তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাসানোর পাশাপাশি মানহীন কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। এ সময় রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদও উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেলপথ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনে যান। তারা কারখানার ক্যারেজ শপ, ওয়াগন শপ, মেশিন টুল শপ ও সিএন্ডএইচ শপ ঘুরে দেখেন। এ সময় মেরামতাধীন কোচের কাজের ফিনিশিং ও ব্যবহৃত উপকরণের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী। বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা চান। তবে তাদের জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তারা কাজের যথাযথ তদারকি করেন না এবং কাজ শেষ হওয়ার পরও সঠিকভাবে বুঝে নেন না। মান যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাজে যুক্ত না করায় ন্যূনতম মানও বজায় থাকছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কাজের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী আরও বলেন, এভাবে কাজ করে সরকারি অর্থের অপচয় করা ঠিক নয়। বরাদ্দের বিপরীতে কাজের যথাযথ মান নিশ্চিত করতে হবে। কাজ সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর মজুরি পরিশোধ এবং কোচ-ওয়াগন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। মানহীন কাজ চালিয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ঢাকা থেকে বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সেখানে মন্ত্রী সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন।
কারখানায় পৌঁছালে বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএসডব্লিউ) শাহ সূফী নুর মোহাম্মদ, কর্মব্যবস্থাপক (ডব্লিউএম) মমতাজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতারা তাদের স্বাগত জানান। এ সময় সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, সাধারণ সম্পাদক শাহীন আকতার শাহীনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে কারখানার ডিএস অফিসের সম্মেলনকক্ষে কর্মকর্তা ও শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সাথে পৃথকভাবে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। পরে বেলা ২টার দিকে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন রেলপথ মন্ত্রী।
ব্রিফিংয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা অত্যন্ত প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কারণে এর উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় কাজের মানের ক্ষেত্রে নানা অসংগতি তৈরি হয়েছে। পরিদর্শনে সেসব অসংগতি দেখে সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, কারখানাটির সক্ষমতা ভালো। কিন্তু সেই সক্ষমতা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আগ্রহ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। এসব দুর্বলতা দূর করে কারখানাটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। একইসাথে রেলওয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদনের পরিধি বাড়ানোসহ সার্বিক উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কারখানাটির উন্নয়নের সম্ভাবনা যাচাই করা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার জনবলসংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আবাসনসংকট না থাকলেও বাংলো ও কোয়ার্টারগুলো পুরোনো হয়ে পড়েছে। সেগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। এ ছাড়া রেলওয়ের নয়টি হাসপাতালের অবস্থাও ভালো নয়। এসব হাসপাতালের উন্নয়নে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।
পরে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ পরিদর্শক দল দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কেন্দ্রীয় রেলওয়ে লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শনের উদ্দেশে সৈয়দপুর ত্যাগ করেন। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে তাদের আকাশপথে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।


