...|...|...

জাতীয়

রূপপুরের বিদ্যুৎ পেতে বাড়ছে অপেক্ষা

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১২:১৬ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:৫৪
Shares
রূপপুরের বিদ্যুৎ পেতে বাড়ছে অপেক্ষা

ছবি: সংগৃহীত

চলতি আগস্ট মাসেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রাপ্তিতে বিলম্ব হওয়ায় সেই লক্ষ্যমাত্রা আপাতত পূরণ হচ্ছে না। বাংলাদেশ পরমাণুশক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) ‘বি-২’ কমিশনিং লাইসেন্স ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব না হওয়ায় রূপপুরের বিদ্যুৎ পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো।

প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে, গত ২৮ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সংযোজন শুরু হওয়ার পর এর প্রাথমিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পরীক্ষাগুলো সফলভাবে শেষ হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিতভাবে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা, যাকে ‘ক্রিটিক্যালিটি’ বলা হয়। এই ধাপে প্রবেশ করতে হলে আগে বায়েরার বি-২ লাইসেন্স পাওয়া বাধ্যতামূলক।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানির (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের পর জ্বালানি সংযোজন এবং গুরুত্বপূর্ণ ৯০টি নিরাপত্তা ও কারিগরি পরীক্ষা ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এখন বায়েরা চূড়ান্ত পরিদর্শন শেষে লাইসেন্স প্রদান করলেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব হবে। তবে লাইসেন্স পাওয়ার সাথে সাথেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে না; প্রথমে রিঅ্যাক্টরে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া চালু করার পর আরও চার থেকে ছয় সপ্তাহ বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রস্তুতি শেষে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা যাবে।

এদিকে বায়েরার চেয়ারম্যান মো. মাহামুদুল হাসান বলেছেন, এই পর্যায়ের লাইসেন্স দেওয়া অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। প্রকল্পের নিরাপত্তা, সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড শতভাগ পূরণ নিশ্চিত হওয়ার পরই কেবল লাইসেন্স দেওয়া হবে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এই অনুমোদন দেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় জানাতে পারেননি তিনি।

রূপপুর প্রকল্পের সাবেক পরিচালক ড. শৌকত আকবরও মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে নিরাপত্তার সাথে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই, তাই প্রতিটি ধাপ নিখুঁতভাবে শেষ করেই কেবল সামনে এগোনো উচিত।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুরে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে। এই মেগা প্রকল্পে দুটি ভিভিইআর-১২০০ মডেলের রিঅ্যাক্টর রয়েছে, যার প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট এবং কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।