রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় আমুর অঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ছয়জন ক্রু নিহত হয়েছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, এই দুর্ঘটনায় আহত অপর একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চীন সীমান্তবর্তী আমুর অঞ্চলের একটি জনমানবহীন এলাকায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইটের সময় রুশ বিমানবাহিনীর পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়ার সময় বিমানটিতে কোনো ধরনের গোলাবারুদ বা অস্ত্র ছিল না।
এদিকে, ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পেছনের সব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে রুশ বিমানবাহিনীর একটি বিশেষ কমিশনকে দুর্ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অপ্রমাণিত কিছু ভিডিওতে বিধ্বস্ত বিমানটির ধ্বংসাবশেষ ও পোড়া অংশ থেকে প্রচুর কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, সোভিয়েত আমলের তৈরি ‘তুপোলেভ টিইউ-৯৫’ একটি বিশাল আকৃতির বোমাবর্ষক বিমান, যা পারমাণবিক অস্ত্র বহন, উৎক্ষেপণ ও লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। ১৯৫২ সালে প্রথমবারের মতো আকাশে ওড়ার পর ১৯৫৬ সালে বিমানটি সামরিক সার্ভিসে যুক্ত হয়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বর্তমানে রুশ সামরিক বাহিনী নিয়মিত সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে এটি সচল রেখেছে।
রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের অঞ্চলে বিমান দুর্ঘটনার এটিই প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে খারাপ আবহাওয়া ও দৃশ্যমানতার সংকটের কারণে তিন্দা শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রাকারী একটি আন্তনভ এএন-২৪ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে বোর্ডে থাকা ৪৮ জনের সবাই নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২১ সালের আগস্ট মাসে ১৬ জন আরোহী নিয়ে (যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক) রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে একটি মিল এমআই-৮ হেলিকপ্টারও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল।


