...|...|...

রাজনীতি

রাবি শিবিরের ভয়াবহ গুণ, মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানায়: আম্মার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:৪৫
Shares
রাবি শিবিরের ভয়াবহ গুণ, মিথ্যাকে সত্য আর সত্যকে মিথ্যা বানায়: আম্মার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবির কর্তৃক সাথী পদ থেকে অব্যাহতি ও নানা অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তার দাবি, নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, চাঁদাবাজি ও অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়াসহ তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনো প্রমাণ নেই।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘রাবি শিবিরের একটা ভয়াবহ গুণ আছে, তারা মিথ্যাকে সত্য বানায় আর সত্যকে মিথ্যা।’

সালাহউদ্দিন আম্মার ফেসবুক পোস্টে আরও বলেন, ‘আপনাকে বলবে আপনি নারীর সঙ্গে অবাধ মেলামেশা করেছেন, চাঁদাবাজি করেছেন, অর্থের বিনিময়ে পদ দিয়েছেন। এখন সমস্যা হলো, ওরা অভিযোগ দেবে আর বলবে, এবার প্রমাণ করো তুমি এটা করো নাই।’

‘আচ্ছা, আমি যেটা করিনি সেটার প্রমাণ আমি কীভাবে দেব? ধরেন, হঠাৎ জানতে পারলেন, আপনাকে একজন বলল চোর। এখন এই বলা কথা পুরো পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ল। এখন আপনি কীভাবে প্রমাণ করবেন আপনি চোর নন?’

নারী প্রসঙ্গে আম্মার বলেন, ‘আমি আমার ক্যাম্পাস লাইফে কোনো বোনের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ করেছি বলে মনে হয় না, যেটা ভাইয়ের থেকে অন্য কিছু মিন করবে। ইভেন, আমি রাকসুতে আসা অনেক জুনিয়রের সঙ্গে তুই করে কথা বলি। আমার চরিত্র নিয়ে অন্তত আলাপ দিয়েন না। কারণ, আপনাদের একজন শাখা দায়িত্বশীল আছে, যে দীর্ঘদিন প্রেম করে পরে বিয়ে করছে। হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম, গিয়ে দেখি তার গার্লফ্রেন্ড তার বুকে হাত বুলাইয়া দিতেছে। সুতরাং, শিবির নারী কেলেঙ্কারির জন্য বহিষ্কার করে না এটা ক্লিয়ার।’

চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে আম্মার বলেন, ‘সারা দেশে আমাকে নিয়ে একবার মিডিয়া ট্রায়াল হয়েছিল। ৭৬ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ। এটা এমন ছিল যে, জুলাই নিয়ে একটা কনসার্ট করতে প্রশাসনকে অ্যাপ্রোচ করছিলাম। তৎকালীন ভিসি স্যার বলেছিলেন, এত টাকা দিয়ে আমাদের আয়োজন করা সম্ভব না। তোমরা যদি চাও, আমি রেকমেন্ড করে দিতে পারি। সেটা নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলতে পারো। আমি তখনও এত পরিচিত ছিলাম না। বিভিন্ন ব্যাংক, বিভিন্ন কোম্পানির কাছে এই প্রপোজাল লেটারটা নিয়ে যাই। এটা বাইরে এনে একদল সোনার ছেলে ছড়ায় যে, আমি চাঁদা চেয়ে চিঠি দিয়েছি।’

‘এই গর্দভদের আইডিয়াও নাই যে, চাঁদা চেয়ে কেউ চিঠি দেয় কীভাবে? সেদিন থেকে আমার নামের আগে যুক্ত হলো চাঁদাবাজ।’

অর্থের বিনিময়ে পদ-বাণিজ্য নিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন জায়গায় জায়গায় কমিটি দিচ্ছিল, তখন রাজশাহীর স্থানীয় শিক্ষার্থীরা একটা কমিটি নিয়ে আসে। তাদের এজ ইউজুয়াল ধারণা হলো, আমার কেন্দ্রীয় মানুষজনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। এজন্য আমি এই রাজশাহীর কমিটি এনে দিয়েছি। বাস্তবতা হলো, আমি তাদের এই কমিটির আগে-পিছে কোথাও ছিলাম না। এখন তারা ন্যারেটিভ তৈরি করে সেটা প্রতিষ্ঠিত করার ফুল পিআর পলিসি তাদের আছে। যেমন আজকেরটাই চিন্তা করেন কথা শুরু হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স হাইজ্যাক নিয়ে, তারা ঘুরাইয়া কবে ২৫-এ আমাকে বহিষ্কার করছিল, সেটা স্ট্যাবলিশ করতেছে।

শিবির-সংশ্লিষ্টতার আলাপ নিয়ে আম্মার বলেন, ‘যদি গুপ্ত/শুপ্ত আলাপ দেন, তাহলে আমার থেকে ওপেন এই ক্যাম্পাসের অনেক শাখা দায়িত্বশীলও নাই, ইভেন রাবি শিবিরের রানিং শিবির সভাপতিও নাই। যখন এরা পরিচয় দিতে ভয় পাইতো, ভয়ে দাড়ি সেভ করে মোচ রেখে নিজেরে বাম পরিচয় দিতো, তখন শিবিরের অফিসিয়াল গানে অভিনয় করে আসছি আমি। আমার রাকসু দফতরের অ্যাওয়ার্ড শেল্ফে এখনো সসাস (সেরাদের সেরা-০৫)-এ অভিনয়ে চ্যাম্পিয়ন হইছিলাম, সেই অ্যাওয়ার্ড আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একাধিকবার প্রত্যেক পডকাস্টে বলছি, আপনি আমাকে হাজারবার শিবির বলতে পারেন। কারণ, আমি শিবিরের ক্রাইটেরিয়াতে পড়ে যাব ডানপন্থী সংস্কৃতি চর্চার কারণে। এই ডানপন্থী আর কে আছে? আমি কলরবের সঙ্গেও কাজ করছি। তারা যে পেপার সামনে আনতেছে, এটা তাদের নিজেদের হাতেই, তারা চাইলে এটা বানাতেই পারে। আমি তাদেরকে কতটুকু গুরুত্ব দিতেছি, এটাই ফ্যাক্ট।’

তিনি বলেন, ‘শিবিরের শাখায় যেদিন একজন গুটিবাজ, নোংরা, ধুরন্ধর লোককে মেইন দায়িত্বে যেতে দেখেছি, সেদিন থেকেই শিবিরের পলিসি বোঝা শেষ আমার। শতভাগ সত্য হলো, শিবির কোথায় জায়গা পেলে যে ঠিক কী পরিমাণ মানসিক যন্ত্রণা দিতে পারে, সেটা সালাহউদ্দিন আম্মারের থেকে বেশি কেউ জানে না। তারা একাধিক অভিযোগ এনেছে, একটা প্রমাণ আনেনি। শুধু এলিগেশন।’

আম্মার বলেন, ‘আনীত অভিযোগগুলোর কোনোটার সঙ্গেই সম্পৃক্ত না। এখন যেটা আমি করিনি, সেটার অভিযোগ যদি আমার বিরুদ্ধে দেন, তো আমি প্রমাণ কীভাবে দেব?’