খুলনার পাইকগাছায় গরুর মাংস রান্নার সময় হঠাৎ রঙ পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিক লালচে রঙের মাংস রান্নার মাঝপথে সবুজ বর্ণ ধারণ করায় আতঙ্ক ও কৌতূহল দুটিই ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বুধবার (২২ জুলাই) পৌরসভার মডার্ন বেকারির ২৫ জন কর্মচারী একটি পিকনিকের আয়োজন করেন। এ উপলক্ষে সকালেই তারা স্থানীয় পাইকগাছা বাজার থেকে গরুর মাংস সংগ্রহ করেন। মাংস ব্যবসায়ী ইসমাইলের দোকানে গিয়ে জানতে পারেন, সেদিনের জবাইকৃত মাংস শেষ হয়ে গেছে। তবে দোকানে সংরক্ষিত ফ্রিজের মাংস বিক্রির প্রস্তাব দেন তিনি।
পরে বেকারির কর্মচারী টিটন হোসেন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ওই দোকান থেকে প্রায় চার কেজি মাংস কিনে নিয়ে আসেন। অন্যান্য প্রস্তুতি শেষে তারা কড়াইতে মাংস রান্না শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রান্নার প্রায় অর্ধেক সময় পার হওয়ার পর তারা লক্ষ্য করেন মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং ধীরে ধীরে সবুজে পরিণত হচ্ছে। প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে না পারলেও পরে সবাই নিশ্চিত হন যে মাংসের রঙে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে।
এতে আতঙ্কিত হয়ে তারা রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে প্রথমে বিক্রেতার দোকানে যান এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ ধারণা করছেন, মাংসে কোনো ধরনের রাসায়নিক পদার্থ মেশানো থাকতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, সংরক্ষণ পদ্ধতি বা রান্নার সময় ব্যবহৃত উপকরণের কারণে এমনটি ঘটতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পরীক্ষাগারভিত্তিক প্রমাণ না থাকায় নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মাংস বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, আমি ভালো মানের মাংসই বিক্রি করেছি। এতে কোনো ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয়নি। আমার দোকান থেকে অন্য অনেকেও মাংস নিয়েছেন, তারা কেউ এমন অভিযোগ করেননি। রান্নার সময় হয়তো অন্য কোনো কারণে এমনটা হয়েছে।
এ ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে মাংসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে বিশ্লেষণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সঠিক তদন্ত ছাড়া বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি দূর হবে না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।
খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত মাংসে রাসায়নিক বিক্রিয়া, ধাতব কড়াই বা রান্নার পাত্রের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া, ব্যাকটেরিয়াজনিত পরিবর্তন অথবা রান্নার উপাদানের অস্বাভাবিক মিশ্রণ। এসব কারণে মাংসের রঙ পরিবর্তিত হতে পারে। তবে নিশ্চিত হতে পরীক্ষাগার বিশ্লেষণ জরুরি।


