...|...|...

সারাদেশ

রাতে লেকের বাঁধ কাটা, আড়াই টন মাছ নিয়ে শঙ্কা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:০৬
Shares
রাতে লেকের বাঁধ কাটা, আড়াই টন মাছ নিয়ে শঙ্কা

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় রাতের আঁধারে দরিদ্র কৃষক লাল মিয়ার মাছের লেকের বাঁধ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জয়নাল মিয়া ও তার ছেলে আল আমিনের বিরুদ্ধে। এতে লেকে থাকা প্রায় আড়াই টন মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী। মাছগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইছাছড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত জয়নাল মিয়া মাটিরাঙ্গা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর এলাকার নুর ইসলামের ছেলে।

ভুক্তভোগী লাল মিয়া জানান, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৬০ শতক জমিতে দুই খণ্ডে লেক তৈরি করে প্রায় দুই বছর আগে তেলাপিয়াসহ কার্পজাতীয় মাছের ১৫০ কেজি পোনা ছাড়েন তিনি। স্ত্রীকে সাথে নিয়ে নিয়মিত মাছের পরিচর্যা করে আসছিলেন। বর্তমানে লেকের মাছগুলোর প্রতিটির ওজন প্রায় ২ থেকে আড়াই কেজি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় আড়াই টন মাছ রয়েছে বলে তার দাবি।

লাল মিয়ার অভিযোগ, তার লেকের সাথে জয়নাল মিয়ার সীমানা রয়েছে। সেখানে জয়নাল সেগুনগাছ লাগিয়েছেন। লেকের বাঁধ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরে দুজনের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে বিভিন্ন জায়গা ও দোকানে প্রকাশ্যে লেকের বাঁধ কেটে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

লাল মিয়া বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। অনেক কষ্ট করে এই লেক করেছি। মাছগুলো বড় হয়ে উঠেছে। এখন বাঁধ কেটে দেওয়ায় সব মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যারা এ কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ চাই।’

তবে লেকের বাঁধ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জয়নাল মিয়া ও তার ছেলে আল আমিন। তাদের দাবি, লেকের বাঁধ দেওয়ার কারণে তাদের বাগানের সেগুনগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং টিলাও ভেঙে যাচ্ছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে তারা বাঁধ কাটার সাথে জড়িত নন দাবি করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

মাটিরাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাহেদ উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’