...|...|...

বিশ্ব

যৌন অপরাধ কমাতে ‘অভিনব কৌশল’ কাজে লাগাচ্ছে ব্রিটেন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:২৯ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১৩
Shares
যৌন অপরাধ কমাতে ‘অভিনব কৌশল’ কাজে লাগাচ্ছে ব্রিটেন

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে যৌন অপরাধে দণ্ডিত হাজারো পুরুষ বন্দীকে যৌনাকাঙ্ক্ষা কমানোর ওষুধ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কারাগারগুলোতে এ কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে পারে।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌন অপরাধে দণ্ডিত প্রায় চারজনের একজনকে এ চিকিৎসার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হতে পারে। সে হিসাবে প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ বন্দী এ কর্মসূচির আওতায় আসতে পারেন।

সরকারি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাগারে বন্দীদের পুনর্বাসন ও অপরাধ পুনরাবৃত্তি কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে স্বেচ্ছায় যৌনাকাঙ্ক্ষা কমানোর ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ আরও বাড়াতে আগ্রহী সরকার।

তবে শিশু যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘রাসায়নিক খোজাকরণ’ বাধ্যতামূলক করার যে প্রতিশ্রুতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আগে দিয়েছিলেন, সেটি বাস্তবায়ন করা হবে কি না, তা নিয়ে সরকার নতুন করে ভাবছে।

বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ১৫ হাজার বন্দী যৌন অপরাধে সাজা ভোগ করছেন। এ ছাড়া অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়নের সন্দেহে প্রতি মাসে ৮৫০ জনের বেশি মানুষ গ্রেফতার হচ্ছেন।

অনিয়ন্ত্রিত যৌন তাড়না ও সমস্যাজনক যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণে ‘মেডিকেশন টু ম্যানেজ প্রবলেমেটিক সেক্সুয়াল অ্যারাউজাল’ নামে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি চালু রয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে কর্মসূচিটি ১০টি থেকে বাড়িয়ে ২০টি কারাগারে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরবর্তী ধাপে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের বাইরে উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডের আরও দুটি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা অঞ্চলে কর্মসূচিটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই চিকিৎসা মূলত তাদের জন্য, যারা অনবরত সমস্যাজনক যৌন চিন্তা বা তাড়নায় ভোগেন এবং নিজেদের যৌন আচরণ নিয়ন্ত্রণে সমস্যায় পড়েন।

পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে মূলত দুই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এর একটি হলো সারট্রালিন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত ও সমস্যাজনক চিন্তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। অন্যটি অ্যান্টি-অ্যান্ড্রোজেন, যা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে যৌনাকাঙ্ক্ষা হ্রাস করতে পারে।

যৌন অপরাধীদের চিকিৎসা নিয়ে কাজ করা অধ্যাপক বেলিন্ডা ওয়াইন্ডারের মতে, পরীক্ষামূলক কর্মসূচির ফল ইতিবাচক হলে আগামী ২৮ মাসের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের কারাগারগুলোতে এ চিকিৎসা ব্যাপকভাবে চালু হতে পারে।

তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী ফলাফল ইতিবাচক হলে ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে কর্মসূচি চালুর জন্য বিচার মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিতে পারে।

তবে শুধু ওষুধ প্রয়োগ করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন অধ্যাপক ওয়াইন্ডার। বন্দীদের নিয়মিত চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, যৌন অপরাধীদের জন্য দেশব্যাপী কার্যকর একটি সেবাব্যবস্থা গড়ে তুলতে পর্যাপ্ত বাজেট, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, প্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।