...|...|...

সারাদেশ

যেভাবে খোঁজ মিলল অপ্রতীমের লাশের

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪২ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪৭
Shares
যেভাবে খোঁজ মিলল অপ্রতীমের লাশের

ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীম। ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনটি এখনো পাওয়া যায়নি।

অপ্রতীম কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে থাকত সে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল কাদের জিলানী প্রথম অপ্রতীমের লাশ দেখতে পান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার (ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পাশে) জঙ্গলে বাঁশ কাটতে গিয়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখেন।

পেশায় শ্রমিক জিলানী বলেন, আমরা কাজ করার জন্য আসছিলাম। কাজের জন্য বাঁশ লাগব। তাই বাঁশ কাটতে এদিক দিয়ে যাইতেছিলাম। যাওয়ার সময় ভাতিজা কইছে, ‘কাকা, একটা বাচ্চা পড়ে আছে।’ পরে এখানে আইসা দেখি, মাথার দিকে রক্ত রক্ত। আমরা ভয় পাইয়া গেছি। কাজ (বাঁশ কাটা) ফালাইয়া দিয়া চইলা গেছি।

জিলানী জানান, তার কাছে সময় দেখার মতো কোনো মুঠোফোন বা ঘড়ি ছিল না। তবে সূর্যের অবস্থান দেখে তার ধারণা, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টার মধ্যে তিনি শিশুটিকে দেখতে পান।

জঙ্গল থেকে বেরিয়ে সড়কে ওঠার পর জিলানীর সঙ্গে মামুন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির দেখা হয়। তখন তিনি জানতে পারেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সন্তান নিখোঁজ হয়েছেন। পরে মামুন তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন।

জিলানী বলেন, মামুন ভাই কইল, ম্যাডামের বাচ্চা হারাইছে। (তখন আমি বলি,) ওইখানে একটা বাচ্চা পড়ে রইছে। পরে মামুন ভাই আমারে নিয়ে আবার এখানে আসে। এরপর দেখি এইটাই সেই বাচ্চা।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতীম। পরিবারের ভাষ্য, বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে সে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিল। এরপর আর বাসায় ফেরেনি।

অপ্রতীম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কোটবাড়ি ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করছিল।

পরে শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাথমিক ধারণা, অপ্রতীমের সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য অপ্রতীমের লাশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।