...|...|...

রাজধানী

চাঁদা না পেয়ে মারধর ও ফাঁকা গুলি

যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাইমন চার দিনের রিমান্ডে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৩১ | আপডেট: ২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:২৪
Shares
যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাইমন চার দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির পর মারধর ও ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগে করা মামলায় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। একই মামলায় গ্রেফতার অপর তিন আসামিকে তিন দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রিমান্ডে যাওয়া অন্য তিন আসামি হলেন ওমর (৩২), মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শুনানির সময় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসিম চার আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সাইমনের চার দিন এবং অন্য তিন আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হাতিরঝিল থানার আওতাধীন বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোহান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন। পরে পিস্তলের বাঁট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করেন তিনি। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা সেখান থেকে চলে যান।

আহত সোহান স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে তার ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন তার সাথে যোগ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই সময় সাইমনসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে সেখানে এসে সোহানকে আবারও মারধরের চেষ্টা করেন। মোক্তার হোসেন বাধা দিলে তাকেও মারধর করা হয়।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আসামিদের ধাওয়া করেন। পরে কয়েকজনকে আটক করা হয়। পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় সাইমনও আটক হন। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।

পরে এ ঘটনায় মো. সোহান বাদী হয়ে হাতিরঝিল থানায় মামলা করেন। মামলায় সাইমনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে পুলিশ দাবি করেছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতার ব্যক্তিদের সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, পলাতকদের অবস্থান শনাক্ত এবং মামলার অন্যান্য তথ্য উদ্ধারের জন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

এ ছাড়া গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হাতিরঝিল ও কলাবাগান থানায় বিভিন্ন মাদক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশের রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।