...|...|...

সারাদেশ

যুবককে হানিট্র্যাপে ফেলে অর্থ আদায়, দুই যুবদল নেতা গ্রেফতার

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ২:১৫
Shares
যুবককে হানিট্র্যাপে ফেলে অর্থ আদায়, দুই যুবদল নেতা গ্রেফতার

দুই যুবদল নেতা গ্রেফতার। ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের বোদায় এক যুবককে এক নারীর মাধ্যমে ডেকে নিয়ে মারধর, ভয়ভীতি দেখিয়ে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং টাকা ও মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে যুবদলের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন বোদা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি (৩০) ও ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সোহেল রানা (৩৪)। রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে ভুক্তভোগী যুবক ও স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এ ঘটনায় সোমবার (৫ অক্টোবর) বোদা থানায় মামলা করেন আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের চামেশ্বরী এলাকার বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র বর্মন (৩০)। মামলায় পাঁচ যুবদল নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নাম থাকা অন্য তিনজন হলেন বোদা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন মজুমদার (৫০), ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম আরিফ (৩৫) এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রাজু ইসলাম (৩২)।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর রাতে পরিমল চন্দ্র বর্মন বোদা পৌরসভার প্রামানিকপাড়া শিমুলতলী মোড়ে চা খেতে যান। সেখানে এক নারী তাকে কথা বলার জন্য কাছে ডাকেন। পরিমল ওই নারীর কাছে গেলে মামলার আসামিরা তাকে আটক করে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে ওই নারীর সাথে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে তাকে এলাকার ইলেক্ট্রিশিয়ান ইউসুফ আলীর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবারও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ১০০ টাকার চারটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে পরিমলের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। একইসাথে তার কাছ থেকে নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও চাবি নিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পরিমলকে আটোয়ারী মোড়ে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানান তিনি।

পরদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে পরিমল আবার প্রামানিকপাড়া শিমুলতলী মোড়ে যান। সেখানে আনোয়ার হোসেন রনি ও সোহেল রানাকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পরিমলের স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনকে হেফাজতে নেয়।

এদিকে অভিযোগের পর দলীয়ভাবেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বোদা পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অলিয়ার রহমান অলি ও সদস্য সচিব আফছারুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে চার নেতার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় পদ স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে ওই তালিকায় ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি রাজু ইসলামকে রাখা হয়নি।

বোদা পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আফছারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চার নেতার পদ স্থগিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রাজু ইসলাম ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন না। মামলায় তার নাম কীভাবে এসেছে, তা তিনি জানেন না।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।