...|...|...

বিশ্ব

যুদ্ধের মধ্যেই নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোনীত করল ইরান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:১১
Shares
যুদ্ধের মধ্যেই নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোনীত করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের মধ্যেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী পদে ক্ষেপণাস্ত্রশিল্পের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচিকে মনোনয়ন দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা এই কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্ত হতে দেশটির পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে অনুমোদন পেতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হওয়ার পর থেকে পদটিতে স্থায়ী মন্ত্রী নেই। গত ২ মার্চ থেকে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবনে-রেজা। 

ইরানের সংবিধানের ১৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেতাবচির মনোনয়ন পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের কাছে পাঠানো হয়েছে। আইনপ্রণেতারা তাঁর কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করবেন। এরপর আস্থা ভোটের মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে পার্লামেন্ট।

ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও এরেম নিউজের তথ্য অনুযায়ী, আখলাঘি কেতাবচি দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করছেন। ‘কিতাবচি’ নামেও পরিচিত এই কর্মকর্তার সঙ্গে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও অ্যারোস্পেস খাতের গভীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।

২০০৭ সালে ‘শহীদ বাঘেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপ’-এর প্রধান হিসেবে তাঁকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানের ওপর আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনর্বহাল হলে জাতিসংঘের তালিকায় তাঁর নাম আবারও যুক্ত হয়। 

২০১৪ সালে কেতাবচিকে ‘অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন’-এর প্রধান করা হয়। পরে ২০২০ সালে প্রচলিত অস্ত্রসংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের কারণে ‘ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশন’-এর পরিচালক হিসেবে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। 

ইরানে প্রেসিডেন্ট মন্ত্রীদের মনোনয়ন দেন এবং পার্লামেন্ট তা অনুমোদন করে। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রথাগতভাবে এই পদের মনোনীত ব্যক্তির বিষয়ে সর্বোচ্চ নেতার আগাম অনুমোদন নেওয়া হয়। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে না আসায় এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেতাবচির মনোনয়নে তাঁর অনুমোদন কীভাবে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কর্মকর্তারা কিছু জানাননি।