শক্তিশালী মৌসুমি ঝড় ‘বোয়েল’-এর আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে যুক্তরাজ্যের বিস্তীর্ণ জনপদ। প্রবল বাতাস, মুষলধারে বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঝড়ের তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত দু’জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং রবিবারের মধ্যে প্রায় ৯০ হাজার ঘরবাড়ি ও গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কবলে পড়ে প্রাণ হারানো দু’জনের ওপরই উপড়ে পড়া গাছ আছড়ে পড়েছিল। এর মধ্যে স্কটল্যান্ডের ডামফ্রিস জেলার ক্যাসল ডগলাস এলাকায় গাছচাপা পড়ে মারা যান ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তি। অপর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর লন্ডনে, যেখানে ঝড়ে গাড়িচাপা পড়ে ২০ বছর বয়সি এক তরুণের মৃত্যু হয়। এছাড়া একই ধরনের দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আরও দুই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশ এবং উত্তর ইংল্যান্ডে এই ঝড়ের প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে। পুরো সপ্তাহজুড়ে বয়ে যাওয়া এই ঝড়ে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ রেকর্ড করা হয়েছে ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার, যার ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ নেটওয়ার্ক অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ৯০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটিয়েছেন। শুধু তাই নয়, শনি ও রবিবারের এই ঝড়ের কবলে পড়ে স্কটল্যান্ডের কিছু এলাকায় যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, তা ওই অঞ্চলগুলোর স্বাভাবিক বাৎসরিক বৃষ্টির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান।
আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কতা ও বন্যা পরিস্থিতি
যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সপ্তাহের শুরুর দিনগুলোতে আবহাওয়া আরও অস্থির থাকতে পারে। যদিও সোমবার পরিস্থিতির সামান্য উন্নতির আভাস মিলেছে, তবে মঙ্গলবারের মধ্যে আরেকটি নতুন আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে দেশটিতে আবারও ভারী বৃষ্টি ও প্রবল ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তর ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং উত্তর-পূর্ব আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশে প্রবল বাতাসের কারণে ‘হলুদ সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে, যা মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকবে।
এদিকে, ঝড়ের পাশাপাশি তীব্র বৃষ্টির কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতা জারি করেছে। পরিবেশ দফতর বা ‘এনভায়র্নমেন্ট এজেন্সি’ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে ১০টি বন্যা সতর্কতা এবং ৬৫টি বন্যা সতর্কবার্তা জারি করেছে। পাশাপাশি, স্কটল্যান্ডের পরিবেশ সুরক্ষা দফতর ১০টি এলাকায় সতর্কতা ও ১১টি এলাকায় সতর্কবার্তা এবং ‘ন্যাচারাল রিসোর্সেস ওয়েলস’ ৯টি এলাকায় বন্যা সতর্কবার্তা জারি করেছে।
পরিবহন ব্যবস্থায় বিপর্যয়
ঝড়ের কারণে দেশটির যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে স্কটল্যান্ডের রেল নেটওয়ার্কে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। লিডস ব্র্যাডফোর্ড বিমানবন্দরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে অথবা গন্তব্য পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়া, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে পড়ার ফলে প্রধান সড়কগুলোর যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

