দেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে দায়িত্ব নেওয়ার আগে সংবিধান অনুযায়ী শপথ নিতে হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। পুরো আয়োজনের সার্বিক দায়িত্বে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের শপথবাক্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে।
রাষ্ট্রপতি শপথে বলবেন, আমি…………………., সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ (বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা) করিতেছি যে, আমি আইন-অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি-পদের কর্তব্য বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব; আমি সংবিধানের রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান করিব; এবং আমি ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হইয়া সকলের প্রতি আইন-অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করিব।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথে গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকার থাকলেও রাষ্ট্রপতির শপথে তা নেই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির পদটি মূলত আলংকারিক হওয়ায় এখানে গোপনীয়তার শপথের প্রয়োজন পড়ে না। রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা সাংবিধানিকভাবে দায়যুক্ত কার্যনির্বাহের দায়িত্বে থাকেন, মূলত তাদের ক্ষেত্রেই গোপনীয়তার শপথের বিধান রাখা হয়েছে- রাষ্ট্রপতি সেই দায়যুক্ত নির্বাহী দায়িত্বের বাইরে থাকেন বলেই তার শপথে এই ধারা যুক্ত করা হয়নি।
বঙ্গভবন ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠানের একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে সর্বশেষ প্রস্তুতি ঠিকঠাক আছে কি না তা নিশ্চিত করা যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মূল অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
অনুষ্ঠানের মঞ্চে তিনটি চেয়ার রাখা হয়েছে। সেখানে আসন গ্রহণ করবেন বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বঙ্গভবন সূত্র জানায়, শপথ অনুষ্ঠান শুরুর দুয়েক মিনিট আগে দরবার হলে রাষ্ট্রপতি প্রবেশ করার সময় উচ্চস্বরে তার আগমন-বার্তা দেওয়া হবে, আর সঙ্গে সঙ্গে অর্কেস্ট্রার ঝংকারে বেজে উঠবে জাতীয় সংগীতের সুর। এ সময় প্রধানমন্ত্রীসহ অতিথিরা জাতীয় সংগীত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সম্মান জানাবেন।
এরপর অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি রাষ্ট্রপতির কাছে অনুমতি চাইবেন, আর অনুমতি পেলে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত হবে। এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব বর্তমান রাষ্ট্রপতি, নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও বর্তমান স্পিকারকে মঞ্চে আসন নেওয়ার অনুরোধ জানাবেন, এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত স্পিকারকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পড়ানোর আহ্বান জানাবেন।
শপথ শেষে নতুন রাষ্ট্রপতি হাতে থাকা ফোল্ডারের দুই পাশের দুটি কাগজে সই করবেন- এর একটি সংরক্ষণ করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অন্যটি দেওয়া হবে রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সংগ্রহের জন্য। এই স্বাক্ষরপর্বের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে শপথ অনুষ্ঠান, এরপর মন্ত্রিপরিষদ সচিব উপস্থিত সবাইকে আপ্যায়ন পর্বে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানাবেন।

