...|...|...

ধর্ম

মেসেঞ্জারে সালাম দিলে কি জবাব দেওয়া ওয়াজিব?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৭:৫৭
Shares
মেসেঞ্জারে সালাম দিলে কি জবাব দেওয়া ওয়াজিব?

প্রতীকী ছবি

সালাম ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ একটি অভিবাদন। এর মাধ্যমে একে অপরের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়। সালাম মানুষের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও হৃদ্যতা বাড়ায়, দূর করে বিদ্বেষ ও অহংকার। তাই ইসলামে সালাম প্রচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা প্রকৃত ইমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা গড়ে না ওঠা পর্যন্ত তোমরা প্রকৃত ইমানদার হতে পারবে না। আমি কি তোমাদের এমন একটি কাজের কথা বলব না, যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালোবাসতে লাগবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালাম প্রচার কর।’ (তিরমিজি: ২৬৮৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও ছোট-বড় সবার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সালাম দেওয়ার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন। তার এই আমল মুসলমানদের জন্য অনুসরণীয় আদর্শ।

তবে বর্তমানে সরাসরি সাক্ষাতের পাশাপাশি মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সালাম বিনিময় করেন অনেকে। এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন ওঠে, কেউ লিখে সালাম দিলে তার জবাব দেওয়াও কি ওয়াজিব?

এ বিষয়ে ইসলামী স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, ইসলামে সালাম দেওয়া সুন্নত হলেও সালামের জবাব দেওয়া ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমাদের যখন অভিবাদন করা হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম অভিবাদন করবে অথবা তারই অনুরূপ করবে।’ (সুরা নিসা: ৮৬)

শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আয়াতটিতে অভিবাদন বলতে সালাম বোঝানো হয়েছে। কেউ সালাম দিলে তার জবাব আরও উত্তমভাবে অথবা অনুরূপভাবে দিতে হবে। আয়াতে সালাম দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যমের কথা বলা হয়নি। তাই সরাসরি সাক্ষাতের পাশাপাশি মেসেজের মাধ্যমে সালাম দেওয়া হলেও তার জবাব দেওয়ার বিধান প্রযোজ্য।

অর্থাৎ, মেসেঞ্জার, ইমো বা হোয়াটসঅ্যাপে কেউ সালাম লিখে পাঠালে তার জবাব দেওয়া ওয়াজিব বলে উল্লেখ করেছেন এই ইসলামী স্কলার।

এদিকে, মাসিক আল কাউসার-এ প্রকাশিত এক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, লিখিত বার্তায় সালাম পাওয়ার ক্ষেত্রে জবাব দেওয়ার জন্য সালামদাতাকে শুনিয়ে বলা, পাল্টা বার্তা পাঠানো কিংবা ফোন করে জানানো জরুরি নয়। মুখে সালামের জবাব দিলেই যথেষ্ট বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ফয়জুল কাদির (৪/৩১) ও রদ্দুল মুহতার (৬/৪১৫) গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে।

ইসলামে সালাম কেবল অভিবাদন নয়; বরং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসা প্রতিষ্ঠারও একটি মাধ্যম। তাই দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি ডিজিটাল যোগাযোগেও সালাম ও তার জবাবের বিষয়ে সচেতন থাকার গুরুত্ব রয়েছে।