...|...|...

ধর্ম

মেসেঞ্জারে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যাবে, জানালেন আহমাদুল্লাহ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:২০ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:১১
Shares
মেসেঞ্জারে কবুল বললে কি বিয়ে হয়ে যাবে, জানালেন আহমাদুল্লাহ

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন যোগাযোগের ব্যবহার বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিয়ের বিষয়েও। অনেকের প্রশ্ন—ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া এবং জবাবে ‘কবুল’ বললে কি ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়?

এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, শুধু মেসেঞ্জারে ‘কবুল’ বললেই বিয়ে সম্পন্ন হয় না।

তিনি বলেন, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য সাক্ষী, একই বৈঠকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন হওয়া এবং মোহরের বিষয়সহ নির্ধারিত কিছু শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন। শুধু লিখিত বার্তার মাধ্যমে প্রস্তাব গ্রহণ করলে তা বিয়ের জন্য যথেষ্ট নয়।

শায়খ আহমাদুল্লাহর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে যদি মেসেঞ্জার বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব আদান-প্রদান করেন এবং একাধিকবার ‘কবুল’ বলেন, তবুও শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে সেটি বৈধ বিবাহ হিসেবে গণ্য হবে না।

তিনি আরও বলেন, দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে এবং বিয়ের নিয়ম অনুযায়ী ইজাব-কবুল সম্পন্ন হলে বিষয়টি ভিন্ন। এমনকি কেউ ঠাট্টা করেও বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং অপর পক্ষ তা গ্রহণ করে, যদি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ থাকে, তাহলে তা বিবাহ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী, বিয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সাক্ষীর উপস্থিতি। সাধারণভাবে কমপক্ষে দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষীর উপস্থিতি প্রয়োজন বলে আলেমরা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে একটি হাদিসে এসেছে, ‘অভিভাবক এবং দুজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষী ছাড়া বিয়ে (শুদ্ধ) হয় না।’ (ইবনে হিব্বান)

তবে সাক্ষীর জন্য নির্দিষ্ট দুজন ব্যক্তিকে আলাদা করে নির্বাচন করাই সবসময় জরুরি নয়। কোনো স্থানে বিয়ের আকদ হলে এবং সেখানে উপস্থিত লোকজন ইজাব-কবুল শুনতে পেলে, যোগ্য ব্যক্তিরা সাক্ষীর শর্ত পূরণ করতে পারেন।

তাই শুধু অনলাইনে ‘কবুল’ বলা বা লিখিত সম্মতি দেওয়া নয়, বরং ইসলামী শরিয়তের নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত পূরণ করেই বিয়ে সম্পন্ন করতে হয়।