...|...|...

খেলা

মেসি-রোনালদোর উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে চার তারকা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৪৪ | আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৪৮
Shares
মেসি-রোনালদোর উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে চার তারকা

ছবি: সংগৃহীত

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ফুটবলে রাজত্ব করেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাদের আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে শেষ হতে যাচ্ছে একটি বর্ণাঢ্য যুগ। গোল, রেকর্ড ও শিরোপায় সমৃদ্ধ তাদের উত্তরাধিকার ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ এখন নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের সামনে। সেই দৌড়ে সম্ভাবনাময় চার তারকাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর এক প্রতিবেদনে মেসি-রোনালদোর উত্তরসূরি হওয়ার সম্ভাবনায় চার ফুটবলারের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, হ্যারি কেইন ও লামিন  ইয়ামাল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতোমধ্যে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই চারজন। তবে তাদের সামনে এখনো অনেক পথ বাকি।

পর্তুগালের হয়ে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল করেছেন রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ ও গোলের রেকর্ড তার দখলে। তার নেতৃত্বে ২০১৬ সালে ইউরো এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগ জেতে পর্তুগাল।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল করেছেন মেসি। তার নেতৃত্বেই ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জেতে আর্জেন্টিনা। এ ছাড়া ২০২১ ও ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপাও জিতেছেন তিনি।

দীর্ঘ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের হয়ে মেসি ও রোনালদো মুখোমুখি হয়েছেন মাত্র দুবার। ২০১১ সালে জেনেভায় প্রথম দেখায় ২-১ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা। দুজনই ওই ম্যাচে গোল করেন। ২০১৪ সালে ম্যানচেস্টারে দ্বিতীয় ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পায় পর্তুগাল।

হালান্ড: গোলের ক্ষুধায় এগিয়ে

নরওয়ের আর্লিং হালান্ডকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা গোলমেশিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৫৯ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার গোল ৬৫টি। অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে একটিরও বেশি গোল করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার।

হালান্ডের পারফরম্যান্সে ২৮ বছর পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও এখন তার। ৩৩ গোল করা ইয়র্গেন ইউভেকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।

এমবাপ্পে: উত্তরসূরি হওয়ার বড় দাবিদার

মেসি-রোনালদোর উত্তরাধিকার বহনের আলোচনায় এগিয়ে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। ১০৭ আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার গোল ৬৭টি। ফ্রান্সের হয়ে অলিভিয়ের জিরুর ৫৭ গোলের রেকর্ড ভেঙে এখন জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। পাশাপাশি রয়েছে ৪০টি অ্যাসিস্ট।

বিশ্বকাপেও নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এমবাপ্পে। তিন আসর মিলিয়ে ফাইনালে করেছেন ২২ গোল। ২০১৮ সালে ফ্রান্সের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। বয়স মাত্র ২৭ হওয়ায় সামনে আরও অনেক রেকর্ড গড়ার সুযোগ রয়েছে এই ফরোয়ার্ডের।

হ্যারি কেইন: গোলের রেকর্ড, শিরোপার অপেক্ষা

বয়স ৩৩ হলেও হ্যারি কেইনকে এই তালিকার বাইরে রাখার সুযোগ নেই। ইংল্যান্ডের হয়ে ১২৫ ম্যাচে ৯১ গোল করেছেন তিনি। জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তার দখলে। পেছনে ফেলেছেন ওয়েইন রুনির ৫৩ গোলের কীর্তি। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার অ্যাসিস্ট ২৩টি।

তবে ব্যক্তিগত অর্জনের বাইরে বড় শিরোপার অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি কেইনের। ইংল্যান্ডের হয়ে এখন পর্যন্ত কোনো বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি জিততে পারেননি এই স্ট্রাইকার।

ইয়ামাল: ভবিষ্যতের বড় তারকা

চারজনের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী লামিনে ইয়ামাল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্পেনের জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া বার্সেলোনার এই উইঙ্গার ইতোমধ্যে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। এখন পর্যন্ত ৩৬ আন্তর্জাতিক ম্যাচে করেছেন ১১ গোল, সাথে  রয়েছে ১৩টি অ্যাসিস্ট।

স্পেনের হয়ে ইউরো ২০২৪ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন ইয়ামাল। ওই আসরের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার দুর্দান্ত গোলটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। বয়স ও সামর্থ্য বিবেচনায় ভবিষ্যতে আরও অনেক রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার।

মেসি ও রোনালদোর মতো দীর্ঘ সময় ফুটবল বিশ্বে আধিপত্য ধরে রাখা সহজ হবে না। তবে হালান্ড, এমবাপ্পে, কেইন ও ইয়ামালের পারফরম্যান্স বলছে, নতুন প্রজন্মের সামনে নিজেদের ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে।