...|...|...

আইন ও আদালত

মেজর (অব.) খন্দকার আব্দুল হাফিজের ৪ দিনের রিমান্ড

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৫৯ | আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:২৪
Shares
মেজর (অব.) খন্দকার আব্দুল হাফিজের ৪ দিনের রিমান্ড

অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজ। ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থ সংগ্রহ এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, খন্দকার আব্দুল হাফিজ তার সহযোগী লে. (অব.) কাজী গুলশান আরা, লে. কর্নেল (অব.) দেবাশীষসহ অন্যদের নিয়ে সরকারবিরোধী একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করতেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে- এমন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ নামের দুটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তিনি সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন। এসব যোগাযোগের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনকে পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল বলেও তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগ।

তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘Khondokar A Hafiz’ নামের একটি ফেসবুক আইডি এবং কয়েকটি পেজ থেকে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হয়। এসব মাধ্যমে পুলিশ হত্যার পক্ষে প্রচারণা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক এবং কুৎসামূলক প্রচারণায় আসামির সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, মামলার সাথে জড়িত অন্য সহযোগীদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজন দেশি-বিদেশি ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাধসংশ্লিষ্ট ডিজিটাল আলামত উদ্ধার করা প্রয়োজন।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত অন্য কোনো গোপন পেজ বা ওয়েবসাইট রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করা, মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জব্দ করা আলামত যাচাইয়ের জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা দরকার বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে খন্দকার আব্দুল হাফিজকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারেও তার বিরুদ্ধে সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এজাহারে ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য অর্থায়ন, পুলিশ হত্যার পক্ষে প্রচারণা এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সহায়তায় রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামির বক্তব্য বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।