...|...|...

খেলা

মৃত ফুটবলারের পরিবারকে সহায়তায় এগিয়ে এলো রোনালদোর ক্লাব

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৪২ | আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৪৯
Shares
মৃত ফুটবলারের পরিবারকে সহায়তায় এগিয়ে এলো রোনালদোর ক্লাব

ছবি: সংগৃহীত

মাঠে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের সাথে সংঘর্ষে প্রাণ হারানো স্প্যানিশ ফুটবলার হেসুস দে মিগেলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব ইউডি আলমেরিয়া। ক্লাবটির ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী ম্যাচের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ প্রয়াত ফুটবলারের পরিবারের হাতে তুলে দেবে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

স্প্যানিশ দ্বিতীয় বিভাগের তেনেরিফ ও অ্যান্ডোরার মধ্যকার ম্যাচে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। মাঠের মধ্যে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক জেসুস ওয়ানোর সাথে সংঘর্ষের পর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ৩০ বছর বয়সী তেনেরিফের ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফুটবল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তেনেরিফের বিপক্ষে নিজেদের আসন্ন হোম ম্যাচের টিকিট বিক্রির সম্পূর্ণ অর্থ তার পরিবারকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আলমেরিয়া।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিররের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাবটির অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। গত বছরের মে মাসে সৌদি বিনিয়োগ গোষ্ঠীর কাছে মালিকানা হস্তান্তরের পর ক্লাবটির পক্ষ থেকে এমন মানবিক উদ্যোগ নেওয়া হলো।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা এবং যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ফুটবল পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক তাড়না থেকেই আমাদের সভাপতি মোহাম্মদ আল খেরেজির বিশেষ উদ্যোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ম্যাচডেতে সিডি তেনেরিফের বিপক্ষে আমাদের হোম ম্যাচের সব টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ হেসুস দে মিগেলের শোকস্তব্ধ পরিবারের সহায়তায় তুলে দেওয়া হবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা খুব ভালো করেই জানি যে, প্রিয়জন হারানোর এই শূন্যতা কোনো কিছুতেই পূরণ হওয়ার নয় এবং কোনো আর্থিক বা মানসিক সমর্থনই এই বিশাল ট্র্যাজেডির ব্যথা কমাতে পারবে না। তবে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ফুটবল শুধু মাঠের ৯০ মিনিটের খেলার সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং কঠিন সময়ে পারস্পরিক সহানুভূতি, সংহতি ও একে অপরের পাশে দাঁড়ানোই ফুটবল পরিবারের সবচেয়ে বড় শক্তি ও মূল্যবোধ। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে, যদি তাদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে, তবে আমরা প্রয়াত এই ফুটবলারের পরিবারকে আমাদের স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’

এদিকে মাঠের ওই সংঘর্ষে জড়িত অ্যান্ডোরার গোলরক্ষক জেসুস ওয়ানোও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ঘটনার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেন তিনি। পরে গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক আবেগঘন বিবৃতিতে নিজের অনুভূতির কথা জানান এই গোলরক্ষক।

বিবৃতিতে ওয়ানো বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলো পার করছি আমি। যা ঘটে গেছে, তা কোনোভাবেই নিজের ভেতর মেনে নিতে পারছি না এবং উপযুক্ত কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। হেসুসের এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রয়াণে আমার বুকে এক প্রচণ্ড কষ্ট ও যন্ত্রণা কাজ করছে। আমি শুধু হেসুস, তার পরিবার এবং তাকে ভালোবেসে যাওয়া প্রতিটি মানুষের কথা ভাবছি। জানি, সামনে আইনিসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা হবে এবং আমি যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। কিন্তু সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে হেসুস ও আমাদের এই বেদনার বাইরে অন্য কিছু ভাবার মতো মানসিক স্থিতি আমার নেই। শান্তিতে ঘুমাও, হেসুস।’

হেসুস দে মিগেলের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনও। চলতি সপ্তাহে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সব ম্যাচ শুরুর আগে তার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পাশাপাশি ফরাসি ক্লাব লেন্সের বিপক্ষে গোল করার পর কোমোর তরুণ ফুটবলার নিকো পাজ প্রয়াত হেসুসের ছবি সংবলিত একটি বিশেষ টি-শার্ট প্রদর্শন করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।