...|...|...

খেলা

আট বছর পর অস্ট্রেলিয়ার সেই কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন খাজা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৭
Shares
আট বছর পর অস্ট্রেলিয়ার সেই কেলেঙ্কারি নিয়ে মুখ খুললেন খাজা

ছবি: সংগৃহীত

২০১৮ সালের আলোচিত ‘স্যান্ডপেপার গেট’ কেলেঙ্কারিতে শুধু তিন ক্রিকেটার নয়, অস্ট্রেলিয়া দলের সবাই আগে থেকেই বল বিকৃতির পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন বলে দাবি করেছেন উসমান খাজা। দীর্ঘ আট বছর ধরে ঘটনাটি নিয়ে প্রচলিত ধারণার বিপরীতে গিয়ে নতুন এই তথ্য সামনে এনেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার। তার দাবি, কেপটাউন টেস্টের ওই ঘটনা ছিল পুরো দলের বিষয়, কোনো নির্দিষ্ট তিন ক্রিকেটারের একক কর্মকাণ্ড নয়।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর প্রকাশিত নিজের আত্মজীবনী ‘সবর’ এ এসব দাবি করেছেন খাজা। বইটির কিছু অংশ প্রকাশের পর অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যম ‘নাইন’ এর সাথে কথা বলেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।

খাজার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে বল বিকৃতির বিষয়টি দলের মধ্যে আলোচনায় এসেছিল। এমনকি কেপটাউন টেস্টের আগের গেবেরখা টেস্টেও শিরিষ কাগজ ব্যবহারের প্রসঙ্গ উঠেছিল বলে দাবি তার।

‘এটি আমাদের সবার সম্মিলিত বিষয় ছিল। শুধু ব্যাটার, বোলার বা স্টাফদের বিষয় নয়, আমাদের সবার। আমি এমন কেউ হতে চাই না যে সামনে এসে সত্যটা তুলে ধরছে। আসল সমস্যা হলো, আমি সত্যিই ভেবেছিলাম যে আট বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর এতদিনে সত্যটা সবার সামনে চলে আসবে।’

খাজার এই বক্তব্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) আগের তদন্ত ও অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক। সংস্থাটির তদন্তে বলা হয়েছিল, বল বিকৃতির পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতেন কেবল ক্যামেরন ব্যানক্রফট, স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার। অন্যদিকে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন ২০২১ সালে প্রকাশ্যেই এ বিষয়ে কিছু জানার কথা অস্বীকার করেছিলেন।

নিজের আত্মজীবনীতে খাজা আরও দাবি করেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার গেবেরখার সেন্ট জর্জ পার্কে দ্বিতীয় টেস্ট চলাকালে শিরিষ কাগজ ব্যবহারের বিষয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। সে সময় আলোচনাস্থল থেকে উঠে চলে যান তৎকালীন অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। তিনি জানিয়েছিলেন, এ ধরনের বিষয়ে কিছু জানতে চান না।

খাজার দাবি, পরে প্রথম ইনিংসে বল বিকৃতির প্রস্তাব দেন ব্যানক্রফট। ওই ইনিংসে বল বেশ ভালো সুইং করছিল। এরপর কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে ব্যানক্রফটের পাশেই বসেছিলেন খাজা। ম্যাচ চলাকালে ব্যানক্রফটের সাথে কারা কথা বলেছিলেন, সেটিও তার নজরে এসেছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেপটাউন টেস্টে বল বিকৃতির ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে সম্প্রচারকারী চ্যানেল সুপারস্পোর্টের ক্যামেরায়। চ্যানেলটির লাইভ সম্প্রচারের পরিচালক আলভিন নাইকার ও তার ক্যামেরা দল ব্যানক্রফটের অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করেন। সম্প্রচারের হাই-ডেফিনিশন ফুটেজে দেখা যায়, পকেট থেকে হলুদ রঙের একটি বস্তু বের করে বলের একপাশে ঘষছেন তিনি। পরে বস্তুটি শিরিষ কাগজ বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার তদন্তে উঠে আসে, বল বিকৃতির পরিকল্পনা করেছিলেন তৎকালীন সহ-অধিনায়ক ডেভিড ওয়ার্নার। আর অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ বিষয়টি জানলেও তা ঠেকানোর উদ্যোগ নেননি। শাস্তি হিসেবে স্মিথ ও ওয়ার্নারকে ১২ মাস এবং ব্যানক্রফটকে ৯ মাসের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালনে ওয়ার্নারকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা এবং স্মিথকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পর পদত্যাগ করেন অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধান কোচ ড্যারেন লেহম্যানও।

খাজা আরও জানিয়েছেন, স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারির তদন্তের সময় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া কখনো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। অথচ পুরো টেস্ট সিরিজে ব্যানক্রফটের কাছাকাছি ছিলেন তিনি। তার ধারণা, ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি দলগতভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই হয়তো তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে খাজা বলেন, ‘তারা জানত আমি পুরো বিষয়টি দলগত হিসেবে নেব, আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সত্য বলার জন্য প্রস্তুত এই কারণে আমার সাথে সাক্ষাৎ করা হয়নি বলে আমার ধারণা। আমি ফোনকল পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু তেমন কিছুই ঘটেনি। এরপর যখন তাদের শাস্তি ঘোষণা হলো, আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’

ঘটনার পর দলের কেউ একজন সামনে এসে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করবেন বলে আশা করেছিলেন খাজা। বিশেষ করে ডেভিড ওয়ার্নার সত্য প্রকাশ করবেন বলে তার ধারণা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও তেমন কিছু না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন তিনি।

খাজার ভাষ্য, ড্রেসিংরুমে অন্য সতীর্থদের কাছে গিয়ে পুরো ঘটনার দায় দলগতভাবে নেওয়ার কথাও বলেছিলেন তিনি। তার মতে, শুরু থেকেই সবাই মিলে বিষয়টি সামাল দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু শাস্তি পাওয়া ক্রিকেটারদের কেউই পুরো বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টভাবে মুখ খোলেননি।

সেই ঘটনার প্রভাবও ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারে পড়েছে বলে মনে করেন খাজা। তার মতে, ওয়ার্নারকে দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে মানসিকভাবে ভুগতে দেখেছেন তিনি। ব্যানক্রফটও পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত সুযোগ পাননি, যদিও ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স ভালো ছিল। অন্যদিকে স্মিথ আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন এবং ওয়ার্নারও পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।

এত বছর পর খাজার আত্মজীবনীতে উঠে আসা এসব দাবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ২০১৮ সালের সেই বহুল আলোচিত কেলেঙ্কারি নিয়ে। তবে তার বক্তব্যের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার অন্য ক্রিকেটারদের নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো সামনে আসেনি।