ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সমর্থনে মুম্বাইয়ে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে অভিনেতা ইমরান খানসহ ৪০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আয়োজিত বিক্ষোভের প্রতি সংহতি জানাতে এসব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অননুমোদিত জমায়েত ঠেকাতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের আটক করে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
এর আগে অগাস্ট ক্রান্তি ময়দান থেকে অন্তত ২০০ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে সমাজকর্মী তুষার গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ‘হাম ভারত কে লোগ’ সংগঠনের সদস্য এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি-মার্কসবাদীর সমর্থকেরা ছিলেন। দক্ষিণ মুম্বাইয়ের হুতাত্মা চকের কাছে বিক্ষোভের সময় প্রকাশ আম্বেদকরের নেতৃত্বাধীন ‘বঞ্চিত বহুজন আঘাড়ি’র কর্মীদেরও আটক করা হয়।
বিক্ষোভকারীদের একজন রুবাইদ ভোজানি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের কঠোরভাবে আটক করেছে। তিনি বলেন, তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু এখন নিজেদের প্রতারিত মনে করছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীকে বান্দ্রা থেকে আটক করে ডিএন নগর থানায় নেওয়া হয়। তাঁর সংগঠন ‘হাম ভারত কে লোগ’-এর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সমাজকর্মী ফিরোজ মিথিবোরওয়ালাকেও তাঁর বাসা থেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
বিক্ষোভ ঠেকাতে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। দাদারের শিবাজি পার্কেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, বোম্বে হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী অগাস্ট ক্রান্তি ময়দান বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত স্থান নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটার নিবন্ধনের ফর্ম-৬-এ পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি। এ দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।



