রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাসের বাবা ও বড় ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নগরীর সেন্ট্রাল রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘বিকালে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস এবং ভাই পার্থ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছিল। যেহেতু পুলিশ তাদের এনেছিল, ফলে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
গত ২২ আগস্ট রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬০), তার স্ত্রী প্রীতিলতা (৫০), মেয়ে আগামী (২৫) ও ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর একই এলাকা থেকে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামের দুই তরুণকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর ওই রাতেই তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পরে মঙ্গলবার সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের বন্ধু সীমান্ত আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই তিনজন একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
এদিকে, বুধবার রাতে সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাস অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে, এতে আলামত নষ্ট হয়ে থাকতে পারে।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে ছাদ ধোয়া হয়নি। ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হয়ে যাওয়ায় পানির ট্যাংক উপচে ছাদ ভিজে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সিদ্ধার্থের বাবা ও ভাইকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হলেও চারজন হত্যার ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



