...|...|...

রাজনীতি

ফেসবুক পোস্টে পাটওয়ারী

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের মূল্য দেন বাংলাদেশের বেকার শ্রমিক

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৭ | আপডেট: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:১২
Shares
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের মূল্য দেন বাংলাদেশের বেকার শ্রমিক

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের মূল্য শেষ পর্যন্ত কোনো ব্যবসায়ী দেয় না, দেন বাংলাদেশের বেকার শ্রমিক।

শনিবার (২২ আগস্ট) ফেসবুকে করা এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে পাটওয়ারী লেখেন, ‘আগের ব্যবস্থায় সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ছিল মাত্র ৭৯ হাজার টাকা। অথচ সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে একজন শ্রমিককে সাড়ে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা বা তারও বেশি খরচ করতে হয়েছে বলে বিভিন্ন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অর্থাৎ নির্ধারিত ব্যয়ের প্রায় ৭–৮ গুণ টাকা গুনতে হয়েছে একজন চাকরিপ্রত্যাশীকে। The Daily Star-এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২২–২০২৪ সময়ে মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে $1 বিলিয়নের বেশি অর্থ বেরিয়ে গেছে—তৎকালীন হিসাবে ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। BAIRA-এর সাধারণ সদস্যদের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে, আগেরবার সিন্ডিকেটে অন্তর্ভুক্ত হতে যেখানে প্রায় ৫ কোটি টাকা লেনদেনের কথা শোনা যেত, এবার সেটি সাড়ে ১৭ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। তাদের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত এই অর্থ শ্রমিকদের কাছ থেকেই তোলা হবে এবং একজন কর্মীর মালয়েশিয়া যেতে ৮–১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।

এর মধ্যেই আবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠাতে মাত্র ২৫টি এজেন্সির তালিকা সামনে এসেছে। অথচ BAIRA বলছে, মালয়েশিয়াকে শত শত যোগ্য এজেন্সির তথ্য দেওয়া হয়েছিল। তাহলে কোন মানদণ্ডে এই ২৫টি প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হলো? তাদের অভিজ্ঞতা, সক্ষমতা ও মালিকানার তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না কেন?

আরও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে Bloomberg-এর প্রতিবেদন। তাদের সূত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় National Palace-এ শ্রমবাজারের বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী আমিন নূরের সাথে একটি অনির্ধারিত সাক্ষাৎ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র Palace-এ যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও আমিন নূরের সাথে নির্দিষ্ট বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।

আমিন নূর ও তাঁর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে মালয়েশিয়া শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট ও এজেন্সি নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বহু বছর ধরে সংবাদে এসেছে। তিনি অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং এসব অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে - এমন তথ্য নেই।

২০২৪ সালে এই ব্যবস্থার পরিণতিও বাংলাদেশ দেখেছে। টাকা, ভিসা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও প্রায় ১৭ হাজার কর্মী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়া যেতে পারেননি। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় - সর্বত্র ছিল অসহায় মানুষের ভিড়। এরপর তদন্ত হয়েছে, মামলা হয়েছে। ACC মালয়েশিয়াগামী শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে ৬০টি রিক্রুটিং এজেন্সির ১২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

এত কিছুর পর প্রত্যাশা ছিল নতুন সরকার এই বাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক করবে। বেকার একজন তরুণ যেন ৭৯ হাজার টাকার কাজের জন্য জমি বিক্রি করে ৬ লাখ টাকা জোগাড় করতে বাধ্য না হন। কিন্তু আবার যদি বাজার ২৫টি প্রতিষ্ঠানের হাতে সীমাবদ্ধ হয়, আবার যদি এজেন্সি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, আবার যদি শ্রমিকপ্রতি ৮–১০ লাখ টাকা খরচের আশঙ্কা তৈরি হয়, তাহলে প্রশ্নটা খুবই সাধারণ— সিন্ডিকেট ভাঙা হলো, নাকি শুধু সিন্ডিকেটের মালিকানা বদলালো? মানুষ সরকারের কাছে চাকরির সুযোগ চেয়েছিল, নতুন সিন্ডিকেট চায়নি।’