ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন নতুন করে বড় ধরনের হামলা বা কঠোর অবরোধের কথা চিন্তা করলেও তাতে একচুলও পিছু হটছে না তেহরান। উল্টো কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে দেশটি জানিয়েছে, পারস্য উপসাগরের জলসীমায় কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ঘেঁষতে দেওয়া হবে না এবং সাগরে তাদের কোনো রণতরী পাওয়া গেলে তা ডুবিয়ে দেওয়া হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশ্যেই ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আলী আবদুল্লাহি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে পুনরায় মার্কিন সেনা পাঠানোর স্বপ্ন ট্রাম্পকে কবরেই নিয়ে যেতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক শক্তির বড়াই করে দাবি করলেও তারা ইরানের সীমানার কাছাকাছি যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে রীতিমতো ভয় পাচ্ছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের চরম আতঙ্কে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত সংবেদনশীল সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালী’-তে একের পর এক তেলবাহী জাহাজে হামলা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘাতও নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে।
চলমান এই সংকট নিরসনে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর উদ্যোগে ইস্তাম্বুলে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও তাতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কেউই অংশ নেয়নি। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তুরস্ক সতর্ক করে বলেছে যে, ইরানে যদি নতুন করে কোনো সামরিক হামলা চালানো হয়, তবে তা পুরো অঞ্চলে দাবানলের মতো আগুন জ্বালিয়ে দেবে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন হামলা এবং নিপীড়ন বন্ধ না হলে তারা কোনো ধরনের সমঝোতা বৈঠকে বসবে না এবং হরমুজ প্রণালীও উন্মুক্ত করবে না।


