মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর এলাকায় ঘোড়া জবাই করে মাংস প্যাকেটজাত করে বিক্রির প্রস্তুতির সময় নয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের মধ্যে একজনকে এক বছর এবং অপর আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলার জাগীর পাট গবেষণা এলাকার একটি পরিত্যক্ত কারখানায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের সাজা দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (৩০), রুবেল (৩৯), সোহেল রানা (৩০), ইমন হাসান (২৮), মো. তুহিন (১৯), ইব্রাহিম খলিল (২১), মাসুদ রানা (২৪), হুমায়ুন কবির (৩৫) ও ফারুক হোসেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুন। এ সময় সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুন জানান, পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১-এর ৪ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে একই আইনের ২৪ ধারায় নয়জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন অন্যদের একত্রিত করে এ কার্যক্রমের মূল সমন্বয় করায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অপর আটজনকে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘোড়াগুলো সংগ্রহ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ঢাকা, গাজীপুর ও জামালপুরের বাসিন্দাও রয়েছেন। ঘোড়া জবাইয়ের পর মাংস প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল। পরে এসব মাংস বিভিন্ন বাজারে সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
রিক্তা খাতুন বলেন, ঘটনাস্থলে ঘোড়াগুলোকে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে জবাই করার চিত্র পাওয়া গেছে। এ ধরনের আচরণ প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার শামিল। আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে।
আটক মিজানুর রহমান দাবি করেন, তিনি এর আগে কখনো এ ধরনের কাজ করেননি। এবারই প্রথম ঘোড়া এনে মাংস বিক্রির জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মনির হোসেন বলেন, ঘোড়ার মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ।


