...|...|...

অর্থনীতি

মাছ-সবজির চড়া দামে পকেট ফাঁকা সাধারণ মানুষের

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:০০ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৫০
Shares
মাছ-সবজির চড়া দামে পকেট ফাঁকা সাধারণ মানুষের

ছবি: সংগৃহীত

'মাছে-ভাতে বাঙালি'—এই পরিচয়টি এ দেশের মানুষের খাদ্যসংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে বর্তমানে চাল, ডাল, মাছ ও সবজির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সেই চিরচেনা খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মাছ এবং আগাম শীতকালীন সবজির চড়া দাম ক্রেতাদের পকেট কাটছে, আর এর সাথে যুক্ত হয়েছে কিছু ডালের বাড়তি দাম। তবে ডিম ও মুরগির দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রাজধানীর বাজারগুলোতে রুই-কাতলা থেকে শুরু করে তেলাপিয়া, কৈ-পাঙাশ ও ছোট মাছ—সব ধরনের মাছ কিনতেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। রুই-কাতলা ওজনভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। তেলাপিয়া মিলছে ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়। চাষের কৈ ও পাঙ্গাশের দামও কেজিতে ২০০ টাকার নিচে নয়। আর শিংসহ ছোট মাছ কিনতে খরচ হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা।

অন্যদিকে, রাজধানীর কারওয়ান বাজারে চালের দামেও রয়েছে ভিন্নতা। ২৮ ও পাইজাম চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। স্বর্ণা চালের দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৯০ টাকায়। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা কমেছে সুগন্ধি চিনিগুড়া চালের দাম।

আগাম শীতকালীন সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও দাম এখনও চড়া। বাজারে প্রতি পিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৫০ টাকায়। শিমের কেজি ১২০ টাকা। আকারভেদে প্রতিটি লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৬০ টাকা। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৫০ থেকে ১২০ টাকা এবং করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।

এ ছাড়া প্রতি হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। কাঁকরোলের কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। পটল, ঢেঁড়স ও মুলার দাম কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। কুমড়ার কেজি ৪০ থেকে ৫৫ টাকা, বরবটি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং কচুর লতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা। তবে অন্যান্য সবজির দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।

সবজির পাশাপাশি বেড়েছে কয়েক ধরনের ডালের দামও। ছোলা, বুট, মুগ ও মটর ডালের দাম কেজিতে ১০ টাকা করে বেড়েছে।

তবে ডিমের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। প্রতি ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা এবং হাঁসের ডিমের ডজন ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা। মুরগির দামও রয়েছে স্থিতিশীল।

এদিকে, ভোজ্যতেলের বাজারেও দামের খুব একটা পরিবর্তন নেই। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের লিটার ১৯০ টাকা এবং পাম তেল ১৭৫ টাকা।

মাছ, চাল ও সবজির চড়া দামে চাপে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।  খাদ্যপণ্যের সামগ্রিক এই চড়া দামে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোতে খরচ মেটাতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।