ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের অত্যাধুনিক রকেট ‘স্টারশিপ’ প্রথমবারের মতো কক্ষপথে পৌঁছেছে। উড্ডয়নের সময় একটি ইঞ্জিন অকেজো হয়ে গেলেও তা কাটিয়ে উঠে রকেটটি নতুন প্রজন্মের ২৬টি স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট মহাকাশে মোতায়েন করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মেক্সিকো উপসাগরের তীরে ব্রাউনসভিলের কাছে অবস্থিত স্পেসএক্সের ‘স্টারবেস’ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার স্টারশিপ মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
মানববিহীন এই যানটি দুটি অংশ নিয়ে তৈরি—নিচের অংশে রয়েছে ‘সুপার হেভি’ বুস্টার রকেট এবং ওপরের অংশে মূল ‘স্টারশিপ’ যান।
উড্ডয়নের পর সুপার হেভি বুস্টারটি স্টারশিপকে মহাকাশে পৌঁছে দিয়ে মেক্সিকো উপসাগরের পানিতে ফিরে আসে। আগের দুটি মিশনে বুস্টারের অবতরণ কঠিন হলেও এবার নিয়ন্ত্রিতভাবে পানিতে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
তবে মহাকাশে পৌঁছানোর পর স্টারশিপের তিনটি প্রধান ইঞ্জিনের একটি নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে শুরুতে মিশন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
স্পেসএক্সের মুখপাত্র ড্যান হুওট লাইভ সম্প্রচারে জানিয়েছিলেন, যানটি হয়তো কক্ষপথে পৌঁছাতে পারবে না। তবে কিছুক্ষণ পর প্রকৌশলীদের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, স্টারশিপ কক্ষপথে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারবে। শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টায় সফল হয় রকেটটি।
কক্ষপথে পৌঁছানোর পর প্রায় ২৬৯ কিলোমিটার উচ্চতায় একে একে ২৬টি নতুন প্রজন্মের স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট মোতায়েন করে স্টারশিপ।
এটি ছিল স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন এবং প্রথমবারের মতো এতে প্রকৃত পেলোড বা বাণিজ্যিক মূল্যসম্পন্ন সরঞ্জাম বহন করা হয়। এর আগে ২০২৩ সাল থেকে স্টারশিপের ১৩টি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন কক্ষপথের নিচের সীমা বা সাব-অরবিটাল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ ছিল।
স্পেসএক্স জানিয়েছে, নতুন ‘ভি৩’ স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইটগুলো আগের ‘ভি২ মিনি’ স্যাটেলাইটের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি ডেটা আদান-প্রদান করতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে স্টারলিঙ্ক ব্যবসায় বড় ধরনের সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। বর্তমানে স্পেসএক্স ফ্যালকন ৯ রকেট ব্যবহার করে একবারে ২০ থেকে ৩০টি ভি২ মিনি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে থাকে।
ইলন মাস্কের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টারশিপ নিয়মিত ব্যবহারে এলে প্রতিটি উৎক্ষেপণে প্রায় ৬০টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভি৩ স্যাটেলাইট পাঠানো হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।


