...|...|...

সারাদেশ

মসজিদের জায়গা নিয়ে বগুড়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৯

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২২ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৩
Shares
মসজিদের জায়গা নিয়ে বগুড়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৯

ভাঙচুরের পর টিনের তৈরি মসজিদ। ছবি: টাইমস টুডে

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মসজিদের জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয়পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় একটি টিনের তৈরি মসজিদে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। 

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের রামনগর পশ্চিমপাড়া মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা যায়, রামনগর পশ্চিমপাড়া এলাকায় ২০০১ সালে স্থানীয়দের উদ্যোগে একটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করা হয়। তবে যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে মসজিদটি ক্রয় করা নির্ধারিত জায়গায় না করে প্রায় ২০০ মিটার দূরে নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে মসজিদের জায়গার মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে স্থানীয়রা দুই পক্ষের বিভক্ত হয়ে পড়েন। 

এরপর মসজিদের নির্ধারিত জায়গায় ২০২১ সালে অপর পক্ষ আরেকটি টিনের মসজিদ নির্মাণ করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার জুমার নামাজের পর উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

এ সময় ২০২১ সালে নির্মিত মসজিদটির টিনের বেড়া, মাইক, ফ্যানসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একটি প্রতিবেদনে মসজিদের কিছু মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে; তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে সোহরাব আলী (৫৫), ফরিদুল ইসলাম (৩৫), নুর আলম (৩০), ফরিদুল ইসলাম (৩৪), ডাবলু হোসেন (৪০), রেজাউল প্রামাণিক (৪২), আয়েশা বেগম (৫৫), সুমি খাতুন (৩০) ও গোলছারা বেগম (৫৫) রয়েছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। আহতদের ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে। এক পক্ষের সোহরাব আলী অভিযোগ করেন, মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। অপর পক্ষের আলহাজ আবুল কালাম দাবি করেন, বিরোধ মীমাংসার প্রস্তাব নিয়ে মসজিদে গেলে তাকে আটকে রাখা হয়; পরে স্বজনরা মসজিদের বেড়া ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।