...|...|...

রাজনীতি

মব সংস্কৃতি প্রশাসনের সক্ষমতার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ: এবি পার্টি

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:১৮
Shares
মব সংস্কৃতি প্রশাসনের সক্ষমতার প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ: এবি পার্টি

এবি পার্টির লোগো। ছবি: সংগৃহীত

আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) নেতারা বলেছেন, নির্বাচিত সরকারের সময়েও মব সংস্কৃতি বন্ধ না হওয়া দুঃখজনক। রাষ্ট্রের আইন ও প্রশাসনের সক্ষমতার প্রতি এটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ।

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এসব কথা বলেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলার ঘটনা নয়; রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসনের সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি আঘাত। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দুই শতাধিক লোক রাতের আঁধারে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাবে এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তা ঠেকাতে ব্যর্থ হবে- এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।

এবি পার্টির নেতারা বলেন, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রমের সাথে যুক্ত। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নগদ অর্থ লুট করেছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্থাপনাটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তারা বলেন, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের জমি নিয়ে বৈধ দাবি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য আইন, আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কোনো লিজ বা মালিকানার দাবি কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা দখলের বৈধতা দেয় না। জমির মালিকানা বা লিজ নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে হবে। রাতের আঁধারে দলবল নিয়ে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনায় কারও রাজনৈতিক পরিচয়, পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। গণমাধ্যমে কোনো কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা স্থানীয় নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন, তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করতে হবে।

এবি পার্টির নেতারা বলেন, সরকার যদি সত্যিই বলে থাকে দেশে মব কালচারের দিন শেষ, তাহলে মিরপুরের এই ঘটনায় তার বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চায় তারা। মবের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান শুধু বক্তব্যে নয়, মাঠেও প্রমাণ করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এর আগে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ‘মব কালচার শেষ’ এবং দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার, হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং লুট হওয়া সরকারি টিকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নথিপত্রসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে দলটি।

একই সাথে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবি পার্টি। জমির মালিকানা বা লিজ নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের চিকিৎসা, মাতৃসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত পুনর্বহালেরও দাবি জানিয়েছে তারা।

অধ্যাপক ওহাব মিনার ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, রাষ্ট্রের শক্তি দুর্বল ও অসহায় মানুষের ওপর প্রয়োগ করে দেখানোর বিষয় নয়। যারা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দলবল নিয়ে হাসপাতাল ভাঙে, সরকারি টিকা লুট করে এবং জবরদখলের চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমেই রাষ্ট্রের শক্তি প্রমাণ করতে হবে।

এবি পার্টির নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশে জমি দখল, মব সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে আইনকে প্রতিস্থাপন করার সংস্কৃতি কোনোভাবেই চলতে পারে না।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কর্মী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষ ও ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সংহতি জানিয়ে অবিলম্বে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।