...|...|...

বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, বাড়ল তেলের দাম

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৪১ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৪২
Shares
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, বাড়ল তেলের দাম

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সৌদি আরবে হামলা এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে তেলবাহী জাহাজে আঘাতের খবরের পর বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলারে পৌঁছেছে। গত ১৮ মে’র পর এটিই ছিল তেলের সর্বোচ্চ দাম।

বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথে অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এতে জ্বালানির পাশাপাশি পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বুধবার সৌদি আরবে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলায় দুজন নিহত এবং আটজন আহত হন। একই দিনে সৌদি আরবের একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, উত্তর উপসাগরীয় এলাকায় ‘অবৈধ’ তেল স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত চারটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হামলার পর জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশে তিনটি জাহাজ মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে ইরানি বাহিনী।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তেহরান বলেছে, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর বিরুদ্ধে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবে কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে কর্মরত কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কয়েকটি মিশন থেকেও কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো ধাহরানে তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এসব পদক্ষেপ অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কার্যত অবরোধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওই সময় বাজার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ সতর্ক করেছিলেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর সংঘাতের প্রথম কয়েক সপ্তাহে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। গত এপ্রিলে দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারে পৌঁছেছিল। মে মাসের শেষ দিকে তা আবার ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে। জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতির প্রত্যাশায় দাম কমে প্রায় ৭১ ডলারে দাঁড়ায়।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর জ্বালানি তেলের বাজারে আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দেয়।

জ্বালানি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর থেকে তেল রপ্তানির পরিমাণ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী মাত্রা ছাড়িয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে স্থলপথে লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল পরিবহন বৃদ্ধি পাওয়াকে এর একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ ও বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও ঋণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার বিশ্বের বিভিন্ন শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে।

ইউরোপের প্রধান কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে গঠিত স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচক কমেছে ১ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচক নেমেছে ০ দশমিক ৭ শতাংশ।

এশিয়ার বাজারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক কমেছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩ শতাংশ কমেছে।

জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বিমান পরিবহন খাতেও। যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইনস কোম্পানি আমেরিকান এয়ারলাইনসের শেয়ার প্রাক্-বাজার লেনদেনে প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের কারণে চলতি বছর লোকসান হতে পারে। এর আগে মুনাফা অর্জনের যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা থেকেও সরে এসেছে কোম্পানিটি।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, রয়টার্স